মাঝসমুদ্রে যমদূত হান্তাভাইরাস! প্রমোদতরীতে একের পর এক মৃত্যু, বিশ্বজুড়ে জারি চরম সতর্কতা।

বিশ্বজুড়ে ফের এক মারণ ভাইরাসের ছায়া। প্রমোদতরী ‘এমভি হোন্ডিয়াস’-এ হান্তাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব এখন আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্যের জন্য মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সমুদ্রের নীল জলরাশির মাঝে বিলাসবহুল যাত্রা যে এভাবে মৃত্যুমিছিলে পরিণত হবে, তা কল্পনাও করতে পারেননি যাত্রীরা। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ইতিমধ্যেই গ্লোবাল অ্যালার্ট জারি করেছে।

সেন্ট হেলেনার ৪০ জন যাত্রীকে নিয়ে উদ্বেগ
ডাচ কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরের প্রত্যন্ত দ্বীপ সেন্ট হেলেনায় যাত্রা বিরতির সময় প্রায় ৪০ জন যাত্রী জাহাজ ছেড়ে নেমে যান। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, এই দলেই ছিলেন সেই ডাচ নাগরিকের স্ত্রী, যিনি প্রমোদতরীতে এই সংক্রমণের শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। শুধু তাই নয়, ওই জাহাজ থেকে নামা এক ডাচ মহিলা এবং এক সুইস পুরুষ বর্তমানে দক্ষিণ আফ্রিকায় চিকিৎসাধীন। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। ডাচ বিদেশমন্ত্রী টম বেরেন্ডসেন পার্লামেন্টে এক চিঠিতে নিশ্চিত করেছেন যে, জাহাজটিতে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার সময় থেকেই যাত্রীরা বিভিন্ন স্থানে নেমে গিয়েছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

কেএলএম ফ্লাইটে মারণ ভাইরাসের থাবা?
আতঙ্ক কেবল সমুদ্রেই সীমাবদ্ধ নেই, তা পৌঁছে গেছে আকাশপথেও। ডাচ এয়ারলাইন্স কেএলএম (KLM) নিশ্চিত করেছে যে, হান্তাভাইরাসে মৃত এক ব্যক্তি গত ২৫ এপ্রিল জোহানেসবার্গ থেকে আমস্টারডামগামী ‘KL592’ ফ্লাইটে ওঠার চেষ্টা করেছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় চালক দল তাকে বিমান থেকে নামিয়ে দেয়। কিন্তু ততক্ষণে তিনি কার কার সংস্পর্শে এসেছেন, তা নিয়ে ডাচ স্বাস্থ্য আধিকারিকরা উদ্বিগ্ন। ওই ফ্লাইটের যাত্রীদের সঙ্গে বর্তমানে জরুরি ভিত্তিতে যোগাযোগ করা হচ্ছে।

অ্যান্ডিস স্ট্রেন: মানুষের থেকে মানুষে সংক্রমণের ভয়
তদন্তকারীরা সবচেয়ে বেশি চিন্তিত হান্তাভাইরাসের ‘অ্যান্ডিস স্ট্রেন’ (Andes strain) নিয়ে। সাধারণত এই ভাইরাস ইঁদুর বা বন্যপ্রাণী থেকে ছড়ালেও, এই নির্দিষ্ট স্ট্রেনটি সীমিত আকারে হলেও মানুষের থেকে মানুষে ছড়াতে সক্ষম। এমভি হোন্ডিয়াস থেকে এই বিরল স্ট্রেনটি ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাই বিজ্ঞানীদের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে।

উৎস কি আর্জেন্টিনা?
তদন্তের নজর এখন আর্জেন্টিনার দিকে। এই ক্রুজটি মূলত আর্জেন্টিনা থেকেই অ্যান্টার্কটিকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর মধ্যে আর্জেন্টিনায় হান্তাভাইরাস সংক্রমণের হার সবথেকে বেশি। বিশেষজ্ঞরা খতিয়ে দেখছেন যে, এই মারণ ভাইরাসের উৎসস্থল আদতে দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশটি কি না। বর্তমানে বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্য সংস্থাগুলো সেই সমস্ত যাত্রীদের হন্যে হয়ে খুঁজছে, যারা বিশ্বব্যাপী সতর্কতা জারির আগেই জাহাজ থেকে নেমে পড়েছিলেন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy