‘অপহরণের দর ঠিক হত মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে’! শাহাবুদ্দিনের ছেলেকে টিকিট দেওয়ায় আরজেডি-কে বিঁধলেন জেপি নাড্ডা, কী বললেন মোদির উন্নয়ন নিয়ে?

বিহার বিধানসভা নির্বাচনকে কার্যত এনডিএ জোটের ‘বিকাশ’ (উন্নয়ন) এবং ইন্ডিয়া ব্লকের ‘বিনাশ’ (ধ্বংস)-এর মধ্যে যুদ্ধ বলে আখ্যা দিলেন বিজেপি সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা। বৃহস্পতিবার বিহারের ঔরঙ্গাবাদ জেলায় নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিয়ে তিনি কংগ্রেস ও আরজেডি-কে তীব্র আক্রমণ করেন।
কংগ্রেসকে ‘পরজীবী’ বলে আক্রমণ
ইন্ডিয়া ব্লকের শরিক কংগ্রেসকে ‘পরজীবী’ বলে দাগিয়ে নাড্ডা বলেন:
“এই দল পরজীবী। শরিক দলগুলিকে ধ্বংস করে দেয়।”
আরজেডি মানেই ‘জঙ্গল রাজ’, ‘দাদাগিরি’
আরজেডি প্রধান লালু প্রসাদ যাদব ও তাঁর পরিবারের দুর্নীতির প্রসঙ্গ তুলে নাড্ডা তীব্র আক্রমণ শানান।
চাকরি নিয়ে প্রশ্ন: রাজ্যের প্রাক্তন উপ-মুখ্যমন্ত্রী তেজস্বী যাদব ভোটে জিতে সরকার গড়লে বিহারের প্রতিটি পরিবারে একজন সদস্যকে সরকারি চাকরি দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, সেই প্রসঙ্গে নাড্ডা প্রশ্ন তোলেন, “এত চাকরি দেওয়ার টাকা কোথা থেকে আসবে?” এই প্রসঙ্গে তিনি ‘জমির বদলে চাকরির দুর্নীতি’র প্রসঙ্গও উত্থাপন করেন।
শাহাবুদ্দিন-পুত্রকে টিকিট: গ্যাংস্টার থেকে রাজনীতিবিদ হওয়া মহম্মদ শাহাবুদ্দিনের ছেলে ওসামা শাহাবকে আরজেডি সিওয়ান জেলার রঘুনাথপুর বিধানসভা থেকে প্রার্থী করায় নাড্ডা বলেন, “আরজেডি শাহাবুদ্দিনের ছেলেকে টিকিট দিয়েছে… এই ধরনের মানুষ প্রার্থী হলে বিহারের মানুষের নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত হবে? লালুর আরজেডি মানে তোলাবাজি, জঙ্গলরাজ আর দাদাগিরি।”
এনডিএ শাসনে ‘উন্নয়নের অভিমুখে বিহার’
নাড্ডা দাবি করেন, গত ২০ বছরে নীতীশ কুমারের জমানায় বিহারে ‘জঙ্গল রাজ’ শেষ হয়েছে। তিনি বলেন, “এই নির্বাচনে বিকাশ এবং বিনাশের মধ্যে যুদ্ধ হবে। বিহারের মানুষ জঙ্গল রাজের কথা কোনওভাবে ভুলতে পারবে না।”
উন্নয়নের খতিয়ান: তিনি বলেন, “আজ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে এবং মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের অধীনে বিহার এগিয়ে চলেছে।” তিনি দাবি করেন, গত দশ বছরে বিহারের জন্য রেল বাজেটে বরাদ্দ প্রায় দশ গুণ বাড়ানো হয়েছে। ৪৪টি বন্দে ভারত ট্রেনের মধ্যে ২৬টি শুধু বিহারের জন্য। এছাড়া ছট পুজো উপলক্ষ্যে ১২ হাজার বিশেষ ট্রেন চালুর কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
জঙ্গল রাজের কটাক্ষ: পটেপুর বিধানসভায় গিয়ে নাড্ডা বলেন, আরজেডি-র শাসনকালে রাজ্যে অপহরণ একটা শিল্পে পরিণত হয়েছিল। তাঁর কটাক্ষ, “মানুষ খুব ভালো করে জানে, অপহরণের ঘটনায় তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর সরকারি বাড়িতে তোলাবাজির দর ঠিক হত।”