অনুমতি বাতিল থেকে শর্তসাপেক্ষ সবুজ সঙ্কেত, আজ প্রয়াগরাজে ছাত্রদের মুখোমুখি রাহুল গান্ধী

প্রশাসনের নানা টালবাহানা এবং অনুমতি সংক্রান্ত টানাপোড়েনের পর অবশেষে শনিবার উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর হেভিওয়েট কর্মসূচি ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’। উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে তরুণ প্রজন্ম ও ভোটারদের নিজেদের পক্ষে টানতে এই কর্মসূচিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে কংগ্রেস শিবির। শুক্রবার রাতে মাঠ ব্যবহারের অনুমতি মেলার পর থেকেই প্রয়াগরাজ শহরজুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। কেপি গ্রাউন্ডে বিশাল মঞ্চ, এলইডি স্ক্রিন এবং শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা বড় বড় পোস্টার ও ব্যানারে মুড়ে ফেলা হয়েছে।

কংগ্রেসের দাবি অনুযায়ী, এই ছাত্র সমাবেশে যোগ দিতে রাজ্যের প্রায় ২৩টি জেলা থেকে হাজার হাজার ছাত্র-যুব ইতিমধ্যেই প্রয়াগরাজে এসে পৌঁছেছেন। রেল স্টেশন থেকে শুরু করে কেপি গ্রাউন্ডের মূল রাস্তা পর্যন্ত তরুণ প্রজন্মের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। তবে এই সভার প্রাক্কালে প্রয়াগরাজের রাজনৈতিক পারদ তুঙ্গে উঠেছে। রাহুলের সফরের ঠিক আগে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে শুরু হয়েছে তীব্র পোস্টার-যুদ্ধ। একদিকে কংগ্রেস সমর্থকরা রাহুলের সমর্থনে স্বাগত পোস্টার লাগালেও, অন্যদিকে বেশ কিছু বিতর্কিত পোস্টারে রাহুল গান্ধীকে সরাসরি নিশানা করা হয়েছে।

বিরোধীদের লাগান ওই পোস্টারগুলিতে মূলত ঝাড়খণ্ডের ছাত্রছাত্রীদের বিভিন্ন ইস্যু তুলে ধরে রাহুলকে প্রশ্ন করা হয়েছে। একটি পোস্টারে কটাক্ষ করে লেখা হয়েছে, ‘যে পালিয়ে প্রয়াগরাজে এল, সে ঝাড়খণ্ড যেতে ভয় পাচ্ছে কেন?’ অন্য একটি পোস্টারে তোপ দাগা হয়েছে যে, ঝাড়খণ্ডের ছাত্ররা যখন ন্যায়বিচার চাইছে, তখন রাহুল প্রয়াগরাজে এসে কীসের নাটক করছেন। এমনকি ‘কবে আসবে আমার রাহুল, তোমাকে ঝাড়খণ্ড ডাকছে’—এমন ব্যঙ্গাত্মক স্লোগানযুক্ত পোস্টারও শহরের বিভিন্ন দেওয়ালে দেখা গেছে। এই পোস্টার ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।

নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী, শনিবার প্রয়াগরাজে পৌঁছে প্রথমে ঐতিহাসিক আনন্দভবন পরিদর্শন করবেন রাহুল গান্ধী। এরপর তিনি কেপি গ্রাউন্ডে উপস্থিত লক্ষাধিক ছাত্র-ছাত্রীর সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করবেন। বেকারত্ব, কর্মসংস্থানের অভাব এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো জ্বলন্ত ইস্যুগুলিকে হাতিয়ার করে মোদী সরকারকে চাঙ্গা আক্রমণ করতে পারেন তিনি। এর আগে এক্স (তৎকালীন টুইটার) হ্যান্ডলে দেওয়া এক বার্তায় রাহুল তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেছিলেন যে, বর্তমান ব্যবস্থার জেরে দেশের তরুণ সমাজের ভবিষ্যৎ সম্পূর্ণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। কোটা, দেরাদুন এবং দিল্লির ছাত্র আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন যে, শিক্ষা ব্যবস্থায় চরম দুর্নীতির কারণেই আজ এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে, উত্তরপ্রদেশ কংগ্রেসের ইনচার্জ রাজেন্দ্র পাল গৌতম এক সাংবাদিক বৈঠকে বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, কোটা ও দেরাদুনের মতো প্রয়াগরাজেও এই কর্মসূচি ভেস্তে দেওয়ার বহু ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। তবে সমস্ত বাধা বিপত্তি পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠান করার অনুমতি মিলেছে। উল্লেখ্য, পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে কিছু কঠোর শর্ত সাপেক্ষে এই সভার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। শব্দদূষণ বিধি কঠোরভাবে মানা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা, পর্যাপ্ত ভলান্টিয়ার মোতায়েন এবং কোনোভাবেই যেন রাজপথ অবরুদ্ধ না হয়—সে বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশিকা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন।