২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের রণক্ষেত্রে বীরভূমের সাংসদ তথা অভিনেত্রী শতাব্দী রায় এবার অন্যতম ‘স্টার ক্যাম্পেইনার’। নিজে ভোটে না দাঁড়ালেও চষে বেড়াচ্ছেন জেলার প্রতিটি প্রান্ত। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং বীরভূমের অন্দরের সমীকরণ নিয়ে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অকপট উত্তর দিলেন তিনি।
SIR ইস্যুতে বিজেপিকে তোপ: ভোটার তালিকা সংশোধন বা SIR নিয়ে সরব হয়ে শতাব্দী বলেন, এই নির্বাচনকে বিজেপি ‘অরাজনৈতিক’ করে তুলেছে। তাঁর অভিযোগ:
বিজেপি ক্ষমতার অপব্যবহার করে বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দিচ্ছে।
মৃত ব্যক্তিদের নাম কাটা নিয়ে আপত্তি নেই, কিন্তু তৃণমূলের ভোটবাক্স কমাতে জ্যান্ত মানুষের ভোটদানের অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।
হুমায়ুন কবীর বনাম সংখ্যালঘু ভোট: বীরভূমে হুমায়ুন কবীরের ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’ এবং তাঁদের সংখ্যালঘু ভোট পাওয়ার টার্গেট নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছেন শতাব্দী। তিনি বলেন, “হুমায়ুনকে ভোট দেওয়া মানে পরোক্ষভাবে বিজেপিকেই সমর্থন করা।” তাঁর মতে, বাবরি নাম জুড়ে দিয়ে মানুষকে উত্তেজিত করার যে রাজনীতি চলছে, তাতে সাধারণ মানুষের বিভ্রান্ত হওয়া উচিত নয়।
অনুব্রতহীন বীরভূম ও গোষ্ঠীকোন্দল: জেলায় তৃণমূলের সংগঠনের শেষ কথা ছিলেন অনুব্রত মণ্ডল। বর্তমানে তিনি নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন। এই প্রসঙ্গে শতাব্দী বলেন, “সংগঠনটা উনিই করেছেন, তবে তিনি এখন কতটা ভোট করছেন সেটা সময় বলবে।” বীরভূমের চিরাচরিত ‘গোষ্ঠীকোন্দল’ নিয়ে তাঁর দাবি, দল বড় হলে গোষ্ঠী থাকবেই, কিন্তু নির্বাচনের সময় সবাই তৃণমূলের স্বার্থে একজোট হয়েই কাজ করে। তবে দলের ভেতরে থেকে কেউ গদ্দারি করলে তাঁর বিরুদ্ধে বিরোধিতা হবেই।
৪ মে-র অপেক্ষা: সব শেষে শতাব্দী রায় আশাবাদী যে, মানুষ উন্নয়ন দেখেই ভোট দেবেন। আগামী ৪ মে বীরভূম সহ গোটা রাজ্যের মানুষ কোন দিকে রায় দেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।





