সমুদ্রের গভীরে লুকিয়ে থাকা শত্রু সাবমেরিন হোক বা মাঝসমুদ্রে ঘোরাঘুরি করা চিনা যুদ্ধজাহাজ—সবই এবার ধরা পড়বে ভারতের রাডারে। আমেরিকার সঙ্গে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক চুক্তির পথে পা বাড়াল মোদী সরকার। ৩.৫ বিলিয়ন ডলার খরচ করে আরও ৬টি অত্যাধুনিক P-8I পোসেইডন (P-8I Poseidon) বিমান কিনতে চলেছে ভারতীয় নৌবাহিনী। এই পদক্ষেপের ফলে নীল জলরাশিতে ভারতের আধিপত্য কয়েক গুণ বেড়ে যাবে বলে মনে করছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা।
কেন এই বিমানকে ‘সমুদ্রের চোখ’ বলা হয়? আমেরিকার বোয়িং কোম্পানির তৈরি এই বিমানটি আসলে এক উড়ন্ত ল্যাবরেটরি। এটি মূলত অ্যান্টি-সাবমেরিন ওয়ারফেয়ার বা সাবমেরিন ধ্বংস করার কাজে বিশ্বের সেরা।
অস্ত্রভাণ্ডার: এটি শুধু নজরদারি চালায় না, এতে থাকা ঘাতক টর্পেডো এবং মিসাইল দিয়ে আকাশ থেকেই সাবমেরিন বা জাহাজ উড়িয়ে দেওয়া সম্ভব।
রাডার প্রযুক্তি: এর উন্নত রাডার ও সেন্সর সমুদ্রের অনেক গভীরে লুকিয়ে থাকা লক্ষ্যবস্তুকেও নিখুঁতভাবে শনাক্ত করতে পারে।
দীর্ঘক্ষণ ওড়বার ক্ষমতা: ভারত মহাসাগরের বিশাল জলরাশির ওপর ঘণ্টার পর ঘণ্টা উঁকিঝুঁকি মারতে এই বিমানের জুড়ি মেলা ভার।
ম্যাজিক ফিগার ১৮: ভারতীয় নৌবাহিনীর কাছে বর্তমানে ১২টি এই ধরণের বিমান রয়েছে। নতুন ৬টি যুক্ত হলে এই ঘাতক বহরের সংখ্যা দাঁড়াবে ১৮-তে। যদিও মুদ্রাস্ফীতি ও সাপ্লাই চেইনের সমস্যার কারণে প্রতিটি বিমানের দাম এখন প্রায় ৫০০-৬০০ মিলিয়ন ডলারে ঠেকেছে, তবুও দেশের সুরক্ষার প্রশ্নে কোনও আপস করতে রাজি নয় সাউথ ব্লক।
টার্গেট যখন চীন: ভারত মহাসাগরে চিনা নৌবাহিনীর দাপট ক্রমাগত বাড়ছে। হামেশাই শ্রীলঙ্কা বা মালদ্বীপের আশেপাশে চিনা নজরদারি জাহাজ ও সাবমেরিনের আনাগোনা দেখা যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ‘ইন্দো-প্যাসিফিক’ অঞ্চলে ভারতের কৌশলগত অংশীদার আমেরিকার থেকে এই অস্ত্র কেনা বেজিংয়ের জন্য কড়া বার্তা।
ট্রাম্প-মোদী রসায়ন: ২০২৬-এ দাঁড়িয়ে ট্রাম্প প্রশাসন ও মোদী সরকারের এই সামরিক বোঝাপড়া বুঝিয়ে দিচ্ছে, আগামী দিনে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ভারতের প্রধান ভরসা হতে চলেছে আমেরিকা। ভারতের নৌসেনাকে আরও ‘স্মার্ট’ ও ‘ডেডলি’ করে তুলতেই এই মেগা ডিল চূড়ান্ত করা হয়েছে।





