অনলাইন পেমেন্টে বড় চমক RBI-এর! ১০ হাজারের বেশি লেনদেনে এবার বাধ্যতামূলক ১ ঘণ্টার ‘কুলিং-অফ পিরিয়ড’

ডিজিটাল পেমেন্টের রমরমা বাজারে অনলাইন জালিয়াতি রুখতে এবার কোমর বেঁধে নেমেছে রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া (RBI)। পেমেন্ট সুরক্ষায় একগুচ্ছ নতুন প্রস্তাব নিয়ে এসেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক, যা কার্যকর হলে অনলাইন লেনদেনের প্রচলিত কাঠামো বদলে যেতে পারে। প্রতারণার হাত থেকে সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে আরবিআই এবার ‘কুলিং-অফ পিরিয়ড’ এবং ‘বিশ্বস্ত ব্যক্তি’র অনুমোদনের মতো কঠোর নিয়ম চালুর চিন্তাভাবনা করছে।
নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, কোনো গ্রাহক যদি ১০,০০০ টাকার বেশি অনলাইন অর্থ স্থানান্তর (ট্রান্সফার) করেন, তবে সেই লেনদেন সম্পন্ন হতে এক ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। একে বলা হচ্ছে ‘কুলিং-অফ পিরিয়ড’। এপ্রিল মাসে প্রকাশিত এক আলোচনাপত্রে আরবিআই জানিয়েছে, ‘অথরাইজড পুশ পেমেন্ট’ (APP) ফ্রড বা জালিয়াতি ঠেকাতেই এই পদক্ষেপ। এই ধরনের প্রতারণায় গ্রাহককে চাপের মুখে বা কারসাজির মাধ্যমে টাকা পাঠাতে বাধ্য করা হয়। এক ঘণ্টার এই বিলম্ব গ্রাহককে দ্বিতীয়বার চিন্তা করার বা ভুল বুঝতে পারলে লেনদেন বাতিলের সুযোগ করে দেবে। তবে সব লেনদেনের ক্ষেত্রে এই নিয়ম চাপিয়ে দেওয়া হবে না, কারণ দোকান থেকে কেনাকাটার সময় ১ ঘণ্টা অপেক্ষা করা বাস্তবসম্মত নয়।
বয়স্ক ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের নিরাপত্তার জন্য আরবিআই আরও এক ধাপ এগিয়েছে। ৭০ বছরের বেশি বয়সী নাগরিকদের ক্ষেত্রে ৫০,০০০ টাকার বেশি ডিজিটাল লেনদেনের জন্য একজন ‘বিশ্বস্ত ব্যক্তি’র অনুমোদনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রবীণ নাগরিক টাকা পাঠানোর চেষ্টা করলে মনোনীত ওই ব্যক্তির কাছে অনুমোদনের অনুরোধ যাবে। তবে জরুরি প্রয়োজনে এই নিয়ম বড়সড় বিপত্তি ঘটাতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যাংকিং বিশেষজ্ঞরা। হাসপাতাল বা জরুরি প্রয়োজনে টাকা পাঠানোর সময় মনোনীত ব্যক্তি হাতের কাছে না থাকলে চূড়ান্ত ভোগান্তি হতে পারে।
এই প্রযুক্তিগত বদল আনা সহজ হবে না ব্যাংকের জন্য। তাদের ডিজিটাল পরিকাঠামোয় আমূল পরিবর্তন আনতে হবে, যা বেশ ব্যয়সাপেক্ষ। ইউপিআই (UPI) লেনদেনে ‘জিরো-এমডিআর’ নীতির কারণে ব্যাংকগুলো এমনিতেই আর্থিক চাপের মুখে রয়েছে, তার ওপর এই নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থার খরচ মেটানো তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। ভারতের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা বর্তমানে বিশ্বের কাছে এক রোল মডেল। তাই আরবিআই এখন সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামত নিচ্ছে। চূড়ান্ত নির্দেশিকায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আর গ্রাহক সুবিধার মধ্যে এক ভারসাম্য তৈরি করাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ। আপাতত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছে পুরো দেশ।