অনলাইন গেমিংয়ে আসছে নতুন বিল, জুয়ার ফাঁদ থেকে মুক্তি পাবে কি সাধারণ মানুষ?

অনলাইন জুয়া এবং গেমিংয়ের আসক্তি রুখতে কেন্দ্রীয় সরকার এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিতে চলেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভা ‘প্রোমোশন অ্যান্ড রেগুলেশন অফ অনলাইন গেমিং বিল, ২০২৫’ নামে একটি নতুন বিল অনুমোদন করেছে, যা শীঘ্রই সংসদে পেশ করা হবে। এই বিল কার্যকর হলে দেশে সব ধরনের অনলাইন গেমিং এবং এর বিজ্ঞাপনে টাকার লেনদেন পুরোপুরি নিষিদ্ধ হয়ে যাবে।
এই বিলের প্রধান উদ্দেশ্য হলো অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে মানুষের আর্থিক ক্ষতি এবং সামাজিক অবক্ষয় রোধ করা। বর্তমানে টিভি এবং বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ‘নিজের পছন্দমতো টিম বানান আর দু’ঘণ্টায় কোটিপতি হয়ে যান’— এমন প্রলোভনমূলক বিজ্ঞাপন দেখা যায়। নতুন আইন সেই ধরনের সমস্ত বিজ্ঞাপনে লাগাম টানবে।
বিল অনুযায়ী, যদি কোনো গেমিং অ্যাপ নিয়ম লঙ্ঘন করে অর্থের লেনদেন চালিয়ে যায়, তাহলে সেই সংস্থার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর জন্য তিন বছর পর্যন্ত জেল এবং এক কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। একই ধরনের অপরাধ বারবার করলে পাঁচ বছর পর্যন্ত জেল এবং বড় অঙ্কের জরিমানা হতে পারে। পাশাপাশি, এই ধরনের খেলার বিজ্ঞাপন প্রচারকারীদের জন্য দুই বছর পর্যন্ত জেল এবং ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানার প্রস্তাব করা হয়েছে।
নতুন আইনে খেলোয়াড়দের অপরাধী হিসেবে গণ্য করা হবে না, বরং তাদের ভুক্তভোগী হিসেবে বিবেচনা করা হবে। আইনটি শুধুমাত্র সেইসব সংস্থা বা ব্যক্তির বিরুদ্ধে কার্যকর হবে, যারা অনলাইন জুয়া পরিচালনা করে বা তাতে উৎসাহিত করে।
বিলটি একদিকে যেমন অনলাইন জুয়াকে নিষিদ্ধ করবে, তেমনি লুডো এবং ক্যান্ডি ক্রাশের মতো অনলাইন সামাজিক গেম এবং ই-স্পোর্টসকে উৎসাহিত করবে। এর ফলে ভারতীয় স্টার্টআপগুলো নতুন সুযোগ পাবে এবং গেমিং শিল্পে একটি সুস্থ বাজার তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অনেকেই জানতে চাইছেন যে ড্রিম-১১-এর মতো জনপ্রিয় ফ্যান্টাসি স্পোর্টস অ্যাপগুলিও কি নিষিদ্ধ হবে? যদিও এর সরাসরি উত্তর বিল পাস হওয়ার পরেই পাওয়া যাবে, তবে বিলের প্রস্তাবনা অনুযায়ী, টাকার লেনদেন এবং জুয়ার আসক্তি তৈরি করে এমন সব অ্যাপের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সরকারের এই পদক্ষেপের মূল কারণ হলো অনলাইন গেমিং-এর আসক্তিতে পড়ে অনেকের সর্বস্বান্ত হওয়া এবং এর ফলে মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি, যা আত্মহত্যার মতো চরম পদক্ষেপেরও কারণ হয়েছে। এছাড়া, অনলাইন মানি গেমিংকে মানি লন্ডারিং এবং অন্যান্য অবৈধ কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। এই নতুন বিল কার্যকর হলে দেশের তরুণ প্রজন্ম এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থ সুরক্ষিত হবে বলে আশা করা যায়।