অতীতের জটিল কর ব্যবস্থা থেকে আধুনিক পথে! ৯ বছর পূর্ণ করল জিএসটি, একনজরে সাফল্য

পণ্য ও পরিষেবা কর বা জিএসটি (GST) ব্যবস্থা আজ ৯ বছর পূর্ণ করল। ২০১৭ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়া এই কর ব্যবস্থা ভারতের অর্থনৈতিক মানচিত্রে এক অভূতপূর্ব বদল এনেছে। ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান ট্যাক্স’ বা ‘এক দেশ, এক কর’—এই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই গত ৯ বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে সংস্কার চালিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।

কর ব্যবস্থার আমূল বদল

জিএসটি চালুর আগে ভারতে ১৭টি পরোক্ষ কর এবং ১৩টি সেস (Cess) কার্যকর ছিল। কেন্দ্র ও রাজ্যের ভিন্ন ভিন্ন কর কাঠামোর কারণে ব্যবসায়ীদের আইনি জটিলতায় পড়তে হতো। জিএসটি এই সমস্ত করকে এক ছাতার নিচে নিয়ে এসে কর ব্যবস্থাকে স্বচ্ছ, সহজ এবং ব্যবসাবান্ধব করে তুলেছে।

৯ বছরের প্রধান অর্জনগুলো:

  • অভিন্ন কর কাঠামো: দেশের প্রতিটি প্রান্তে একই করহার কার্যকর হওয়ায় আন্তঃরাজ্য বাণিজ্য অনেক সহজ হয়েছে।

  • স্বচ্ছতা ও ডিজিটালাইজেশন: ডেস্টিনেশন বেসড ট্যাক্স হওয়ায় পণ্য বা পরিষেবা যেখানে ব্যবহার হচ্ছে, সেই রাজ্যই করের ন্যায্য অংশ পাচ্ছে।

  • ছোট ব্যবসায়ীদের স্বস্তি: ২০১৯ সালে জিএসটি নিবন্ধনের সীমা ২০ লক্ষ থেকে বাড়িয়ে ৪০ লক্ষ টাকা করা হয়, যা ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের জন্য বড় সুবিধা হিসেবে কাজ করছে।

  • নিয়ম সরলীকরণ: গত কয়েক বছরে কর জমা দেওয়া এবং নিবন্ধনের নিয়মগুলোকে আরও সহজ করা হয়েছে, যার সর্বশেষ ধাপগুলো ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ থেকে কার্যকর হয়েছে।

সামনে কী? ‘জিএসটি ২.০’

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত ৯ বছরে শুধু কর ব্যবস্থা আধুনিকীকরণই হয়নি, বরং দেশের অর্থনৈতিক সংহতিও শক্তিশালী হয়েছে। তবে এই সংস্কার এখানেই থামছে না। আগামী দিনে ‘জিএসটি ২.০’ (GST 2.0)-এর মাধ্যমে এই প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল ও প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত করার পরিকল্পনা রয়েছে কেন্দ্রের।

এখনও মদ ছাড়া প্রায় সমস্ত পণ্য ও পরিষেবা জিএসটির আওতায় আনা হয়েছে। ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করতে এবং কর ফাঁকির প্রবণতা কমাতে আগামী দিনে এই ব্যবস্থায় আরও কিছু বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে।