কষ্ট করে জমানো টাকা ব্যাঙ্কে রাখলেই কি নিরাপদ? বর্তমান সাইবার অপরাধের যুগে আপনার একটি ছোট ভুল বা অসাবধানতা মুহূর্তের মধ্যে আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফাঁকা করে দিতে পারে। বিশেষ করে যাঁদের একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট রয়েছে, তাঁদের জন্য বিপদ আরও বেশি। আপনি কি জানেন, আপনার যে অ্যাকাউন্টটি বছরের পর বছর ব্যবহৃত হচ্ছে না, সেটিই হতে পারে হ্যাকারদের প্রধান লক্ষ্য?
অব্যবহৃত অ্যাকাউন্টে বিপদ কোথায়? অনেকেরই কাজের প্রয়োজনে বা পুরনো স্যালারি অ্যাকাউন্ট হিসেবে একাধিক অ্যাকাউন্ট থাকে। দেখা যায়, একটি অ্যাকাউন্ট নিয়মিত ব্যবহার করলেও অন্যটি অবহেলায় পড়ে থাকে। এখানেই লুকিয়ে রয়েছে বিপদ:
অ্যাক্টিভ চার্জেস: অব্যবহৃত অ্যাকাউন্টে মিনিমাম ব্যালেন্স না থাকলে ব্যাঙ্ক জরিমানা কাটতে থাকে। ফলে ধীরে ধীরে আপনার জমানো টাকা কমতে থাকে।
সাইবার হ্যাকিং: যে অ্যাকাউন্টের এসএমএস (SMS) অ্যালার্ট আপনি চেক করেন না বা পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করেন না, সেটি হ্যাক করা জালিয়াতিদের জন্য অনেক সহজ।
পরিষেবা চার্জ: ডেবিট কার্ডের বার্ষিক চার্জ বা এসএমএস চার্জের কারণেও অজান্তেই টাকা কাটতে থাকে ব্যাঙ্ক।
ব্যাঙ্ক ফ্রড রুখতে যা করবেন না (Common Mistakes): ১. পাবলিক ওয়াই-ফাই ব্যবহার: রেল স্টেশন বা ক্যাফে-র ফ্রি ওয়াই-ফাই ব্যবহার করে কখনওই ব্যাঙ্কিং ট্রানজ্যাকশন করবেন না। এতে আপনার ইউজার আইডি এবং পাসওয়ার্ড চুরি হতে পারে। ২. অচেনা লিঙ্কে ক্লিক: লটারি জেতা বা কেওয়াইসি (KYC) আপডেটের নামে আসা কোনো লিঙ্কে ক্লিক করবেন না। মনে রাখবেন, ব্যাঙ্ক কখনও ফোনে পিন (PIN) বা ওটিপি (OTP) চায় না। ৩. একই পাসওয়ার্ড সব জায়গায়: সোশ্যাল মিডিয়া এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড কখনওই এক রাখবেন না। নিয়মিত পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন।
আপনার করণীয় কী? আপনার যদি এমন কোনো অ্যাকাউন্ট থাকে যা আপনি ব্যবহার করেন না, তবে দেরি না করে আজই সেই ব্যাঙ্কের শাখায় গিয়ে অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করে দিন। আর যদি অ্যাকাউন্ট রাখতে চান, তবে তাতে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা রাখুন এবং মোবাইল ব্যাঙ্কিং-এর মাধ্যমে নিয়মিত লেনদেন নজরে রাখুন।
উপসংহার: প্রযুক্তির যুগে টাকা রাখা যতটা সহজ, তা রক্ষা করা ততটাই কঠিন। তাই ডিজিটাল নিরাপত্তা নিয়ে সামান্যতম অবহেলাও আপনার বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে। আজই আপনার ফোন চেক করুন এবং দেখুন কোনো অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ বা মেসেজ আপনার ব্যাঙ্কিং তথ্যের ক্ষতি করছে কিনা।





