অক্টোবরেই শীতের চাদর, কাঁপছে দিল্লি! সর্বকালের রেকর্ড ব্রেক করবে শীতকাল?

সবেমাত্র অক্টোবর। এর মধ্যেই দেশের একাধিক পার্বত্য অঞ্চলে শুরু হয়েছে তুষারপাত, এমনকী রাজধানী দিল্লির মতো সমতলেও বৃষ্টিস্নাত সকালে রীতিমতো শীতের আমেজ। শরৎ এবং শীতের মাঝামাঝি এই সময়েই দেশের বিভিন্ন অংশে ভরপুর ঠান্ডা অনুভূত হওয়ায় শুরু হয়েছে হিসেবনিকেশ— এটা কি তবে আসন্ন হাড় কাঁপানো শীতের মরশুমের ট্রেলার? এ বছর কি তবে সর্বকালের রেকর্ড ব্রেক করবে শীতকাল?
মৌসম ভবন এবং আমেরিকার ক্লাইমেট প্রেডিকশন সেন্টার যৌথভাবে জানিয়েছে, অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর উত্তর ভারত অতিরিক্ত ঠান্ডার সাক্ষী হতে চলেছে। এই জল্পনার কেন্দ্রে রয়েছে ‘লা নিনা’-র প্রভাব। IMD-র পূর্বাভাস বলছে, ২০২৫ সালে স্বাভাবিকের থেকে বেশি ঠান্ডা পড়ার সম্ভাবনা প্রায় ৭১%।
যদিও অনেক আবহাওয়াবিদ সতর্ক করে বলেছেন, এখনই সম্পূর্ণ পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব নয়। প্রাথমিক পূর্বাভাসের পরও শীতের তীব্রতা সময়ের সঙ্গে কমতে পারে।
জম্মু-কাশ্মীর, হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ডের পার্বত্য এলাকায় চলতি মাসের শুরুতেই তুষারপাতের জেরে পাহাড় বরফের চাদরে ঢাকা পড়েছে। চামোলি থেকে লাহুল-স্পীতি কিংবা কাশ্মীর— একাধিক পাহাড়ের চূড়া তুষারাবৃত। তুষারপাতের কারণে অনেক রাস্তা বন্ধ হয়ে গিয়েছে এবং বিভিন্ন এলাকায় তাপমাত্রা শূন্যের নীচে নেমে গিয়েছে। গত মঙ্গলবার তুষারপাতে নিখোঁজ হয়েছেন দুই সেনা জওয়ানও।
মধ্য এবং নিম্ন হিমালয়ে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণেও তাপমাত্রা নিম্নমুখী। হিমাচল প্রদেশের একাধিক জেলায় হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
দিল্লি-এনসিআর এবং গাঙ্গেয় সমতলে আবহাওয়া পরিবর্তন
গাঙ্গেয় সমতলেও দেখা যাচ্ছে শীত শীত ভাব। গত সোমবার থেকে উত্তর ভারতের প্রায় সর্বত্রই তাপমাত্রা নেমে গিয়েছে। দিল্লি-এনসিআর-এ আচমকা ভারী বৃষ্টিতে বিমান পরিষেবা ব্যাহত হয়েছে, কমপক্ষে ১৫টি ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছে। একইরকম আবহাওয়া চলছে হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, পঞ্জাব এবং উত্তর রাজস্থানেও।
সাময়িক পরিবর্তন নাকি দীর্ঘস্থায়ী শীত?
মৌসম ভবনের বিজ্ঞানী নরেশ কুমার জানিয়েছেন, এই আবহাওয়া পরিবর্তন মূলত পশ্চিমী ঝঞ্ঝা-র কারণে। এর জেরে ভূমধ্যসাগর থেকে আর্দ্রতা উত্তর-পশ্চিম ভারতের দিকে আসছে, যার ফলস্বরূপ এই অঞ্চলে আচমকা বৃষ্টিপাত এবং তাপমাত্রা কমেছে। এই আগাম ঠান্ডা সাময়িক হতে পারে এবং খুব শীঘ্রই আকাশ পরিষ্কার হয়ে আবার গরম ফিরতে পারে।
তবে আবহাওয়াবিদদের প্রাথমিক পূর্বাভাস বলছে, হিমালয় সংলগ্ন রাজ্যগুলিতে তাপমাত্রার পতন ও বৃষ্টিপাত দীর্ঘ শীতকাল ডেকে আনতে পারে। স্কাইমেট ওয়েদারের আধিকারিক মহেশ পালাওয়াত অবশ্য বলছেন, গাঙ্গেয় সমতল অঞ্চলের জন্য এখনই এত তীব্র শীতের পূর্বাভাস দেওয়া আগাম হয়ে যাবে। শীত স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা আগেই আসতে পারে, তবে তা খুব তীব্র হবে বলে মনে হচ্ছে না।
প্রাথমিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৃহস্পতিবারের পর থেকে তাপমাত্রা আবার বৃদ্ধি পাওয়ার কথা। তাই এই আগাম শীতের ছোঁয়াকে ‘ট্রেলার’ হিসেবে দেখছেন আবহাওয়াবিদরা। আসল শীতের আগমন এখনও বাকি, যা হয়তো লা নিনা-র প্রভাবে আরও দাপটের সঙ্গেই আসবে।