ভারতীয় সংবিধানের মূল পাণ্ডুলিপির অন্যতম অলঙ্করণকারী এবং বিশ্ববিখ্যাত চিত্রশিল্পী নন্দলাল বসুর পরিবারের সঙ্গেই এ কী ঘটল? ভোটার তালিকা থেকে বাদ গেল শিল্পীর পৌত্র ৮৮ বছর বয়সী সুপ্রবুদ্ধ সেন এবং তাঁর স্ত্রী দীপা সেনের নাম। সমস্ত বৈধ নথি থাকা সত্ত্বেও এই প্রবীণ দম্পতিকে কেন ব্রাত্য রাখা হলো, তা নিয়ে এবার নজিরবিহীন কড়া অবস্থান নিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত।
সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক হস্তক্ষেপ
সোমবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই ঘটনায় নির্বাচন কমিশনকে (Election Commission) বিশেষ নির্দেশ দিয়েছে। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে:
নন্দলাল বসুর নাতি ও তাঁর স্ত্রীর করা আপিলে নির্বাচন কমিশনকে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে।
অভিযোগ নিষ্পত্তির পর সমস্ত ভোটারের নাম গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখে সাপ্লিমেন্টারি বা অতিরিক্ত তালিকায় তুলতে হবে।
হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তিন জন প্রাক্তন সিনিয়র বিচারপতিকে নিয়ে একটি কমিটি গঠন করতে, যারা আপিল ট্রাইব্যুনালগুলোর জন্য একটি নির্দিষ্ট ও বাধ্যতামূলক প্রক্রিয়া ঠিক করে দেবে।
কেন বাদ গেল নাম?
জানা গিয়েছে, ৮৮ বছর বয়সি সুপ্রবুদ্ধ সেন ও ৮২ বছর বয়সি দীপা সেনের নাম প্রথমে ‘বিচারাধীন’ তালিকায় রাখা হয়েছিল। এরপর নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে তাঁরা সশরীরে হাজিরা দিয়ে সমস্ত নথি জমা দেন। তালিকায় ছিল:
বিশ্বভারতীর পাঠভবনের শিক্ষাগত শংসাপত্র।
পাসপোর্ট ও নাগরিকত্বের অকাট্য দলিল।
চাকরিজীবনের নথি ও পেনশনের স্লিপ। এতসব প্রমাণ দেওয়ার পরেও চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় তাঁদের নাম না ওঠায় দেশজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
জাতীয় আবেগে আঘাত?
নন্দলাল বসু ছিলেন স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শিষ্য এবং ভারতীয় চিত্রশিল্পের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাঁর পরিবারের সদস্যদের নাগরিকত্ব বা ভোটার তালিকায় নাম থাকা নিয়ে এমন টানাপোড়েনকে দুর্ভাগ্যজনক বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। সুপ্রিম কোর্ট আশা প্রকাশ করেছে যে, গঠিত কমিটি আগামীকালের মধ্যেই প্রক্রিয়া নির্ধারণ করবে যাতে দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হয়।
এডিটরস নোট: যখন দেশের সংবিধানের রূপকারের উত্তরসূরিদের ভোটার অধিকার নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়, তখন নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশ কেবল একটি পরিবারের জন্য নয়, বরং কয়েক হাজার ভোটারদের জন্য আশার আলো দেখাল।





