তামিলনাড়ুর রূপালি পর্দার ‘থালাপতি’ এখন বাস্তবের রাজপথের সেনাপতি। রবিবারের তপ্ত দুপুরে চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়াম সাক্ষী থাকল এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের। প্রবল জল্পনা আর দীর্ঘ টানাপোড়েনের অবসান ঘটিয়ে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন তামিলগা ভেট্রি কাজাগাম (TVK) প্রধান সি জোসেফ বিজয়।
সাদা শার্ট, কালো প্যান্ট আর গাঢ় রঙের ব্লেজারে যখন বিজয় মঞ্চে উঠলেন, তখন স্টেডিয়ামের গগনবিদারী চিৎকার মনে করিয়ে দিচ্ছিল তাঁর ব্লকব্লাস্টার সিনেমার প্রিমিয়ারের কথা। কিন্তু এদিন প্রেক্ষাপট ছিল ভিন্ন। রাজ্যপাল রাজেন্দ্র আর্লেকরের সামনে যখন তিনি উচ্চারণ করলেন, “আমি, সি জোসেফ বিজয়…”, তখন করতালিতে ফেটে পড়ে গোটা চত্বর। পর্দার ‘পাঞ্চ ডায়লগ’-এর চেয়েও তাঁর এই শপথবাক্য পাঠ যেন ভক্তদের কাছে বেশি স্মরণীয় হয়ে রইল।
নাটকীয় উত্থান ও জোটের সমীকরণ বিজয়ের এই রাজনৈতিক উত্থান কোনো সিনেমার স্ক্রিপ্টের চেয়ে কম নয়। বিধানসভা নির্বাচনে ১০৮টি আসন পেয়ে একক বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে এলেও সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ছিল আরও ১০টি আসন। গত চার দিন ধরে চলেছে তীব্র রাজনৈতিক দরকষাকষি। শেষ পর্যন্ত কংগ্রেস, বাম দল, ভিএকে (VCK) এবং ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগের নিঃশর্ত সমর্থনে সরকার গঠনের জট কাটে।
বিশেষত, ১৯৬৭ সালের পর এই প্রথম তামিলনাড়ুর শাসক জোটের অংশ হতে পেরে উচ্ছ্বসিত কংগ্রেস শিবির। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকতে দিল্লি থেকে ছুটে এসেছিলেন রাহুল গান্ধী।
অনুষ্ঠানে তারকার মেলা ও আবেগঘন মুহূর্ত শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান ছিল আবেগ আর জাঁকজমকের এক অনন্য সংমিশ্রণ। দর্শকাসনে বসে ছেলের এই ইতিহাস গড়ার মুহূর্ত দেখে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন বিজয়ের বাবা-মা। অন্যদিকে, রূপালি পর্দার সহকর্মী থেকে শুরু করে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি হয়ে ওঠে তারকাখচিত। নীল রেশমি শাড়িতে বিশেষ নজর কাড়েন অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণন। দীর্ঘদিনের সহ-অভিনেতাকে মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসতে দেখে মুগ্ধতা প্রকাশ করেন তিনি।
নতুন যুগের সূচনা ও আগামীর চ্যালেঞ্জ তামিলনাড়ুর গত ছয় দশকের রাজনীতিতে এবার বড়সড় বদল এল। প্রায় ৬০ বছর পর কোনো অ-দ্রাবিড় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব রাজ্যের মসনদ দখল করলেন। রাজনৈতিক সৌজন্যের নজির গড়ে শপথের আগে রাজ্যপাল রাজেন্দ্র আর্লেকরকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান বিজয়, যা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
তবে উৎসবের আমেজ কাটলেই কঠিন বাস্তবের মুখোমুখি হতে হবে নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে। এখন সকলের নজর বিধানসভার আস্থা ভোটের দিকে। সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করে থালাপতি কীভাবে তাঁর ‘নতুন তামিলনাড়ু’ গড়ে তোলেন, এখন সেটাই দেখার।





