শেয়ার বাজারে মাঝেমধ্যেই এমন কিছু পেনি স্টক (কম দামি শেয়ার) আচমকা নজরে আসে, যেগুলি নিজেদের পারফরম্যান্স দিয়ে দালালি স্ট্রিটে রীতিমতো আলোড়ন ফেলে দেয়। শুক্রবার ঠিক তেমনই এক সুগার কোম্পানির শেয়ার খুচরো ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের নজর কেড়ে নিয়েছে। বাজার জুড়ে যখন নানামুখী ওঠানামা, তখন ভারতের প্রধান স্টক এক্সচেঞ্জ এনএসই (NSE)-তে লিস্টেড ‘দাভানাগেরে সুগার কোম্পানি লিমিটেড’ (Davangere Sugar Company Ltd)-এর শেয়ার দর এক ধাক্কায় বেশ কিছুটা লাফিয়ে বেড়েছে। বর্তমানে এই কোম্পানির বাজার মূলধন বা মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশন রয়েছে ৫৫৬.২৭ কোটি টাকা।
শেয়ারের দাম ঠিক কত বাড়ল?
শুক্রবার বাজার বন্ধ হওয়ার সময়ে দেখা যায়, দাভানাগেরে সুগার কোম্পানির শেয়ারটির দাম একদিনে ১.৮৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে শুধু একদিনের হিসেব দেখলে এই স্টকের আসল দৌড় বোঝা যাবে না। বিগত ৫ দিনের খতিয়ান বলছে, এই সময়ের মধ্যে শেয়ারটির দাম এক লাফে ৬.৩০ শতাংশ বেড়ে গিয়েছে। আবার চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে হিসেব কষলে দেখা যাবে, স্টকটি বিনিয়োগকারীদের ৪.৫৮ শতাংশ রিটার্ন দিয়েছে। বর্তমানে বাজারে এই বিপুল চর্চায় থাকা শেয়ারটির দাম রয়েছে মাত্র ৩.৮৮ টাকা।
কেন শুক্রবার রকেটের গতিতে ছুটল এই স্টক?
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, শুক্রবার এই সুগার কোম্পানির শেয়ারে অত্যন্ত বড় আকারের একটি লেনদেন বা ‘ব্লক ডিল’ সম্পন্ন হয়েছে। আর সেই কারণেই শেয়ারের গ্রাফ আচমকা ঊর্ধ্বমুখী হয়ে ওঠে। জানা গেছে, মরিশাস-ভিত্তিক নামী প্রাতিষ্ঠানিক ফান্ড ‘ক্রাফট এমার্জিং মার্কেট ফান্ড পিসিসি’ (Kraft Emerging Market Fund PCC), গত ১৪ মে (২০২৬) একটি বড়সড় ডিলের মাধ্যমে দাভানাগেরে সুগার কোম্পানির এক ধাক্কায় ৫ কোটি শেয়ার কিনে নিয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ বিদেশি বিনিয়োগ বা এফআইআই (FII) আসতেই দামী হয়ে উঠেছে স্টকটি, যার সরাসরি ইতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে শুক্রবারেও।
রিপোর্ট মোতাবেক, দাভানাগেরে সুগার কোম্পানিটি বর্তমানে দৈনিক ১৫০ কিলোলিটার ইথানল উৎপাদন ক্ষমতা নিয়ে কাজ করছে। একই সাথে তারা ইথানল ও পরিবেশবান্ধব জৈবজ্বালানি (Biofuel) ব্যবসার ওপর ক্রমাগত নিজেদের মনোযোগ বাড়াচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে ভারত সরকারের ইথানল মিশ্রণ নীতি এবং পরিচ্ছন্ন শক্তির ওপর বাড়তি গুরুত্ব দেওয়ার কারণে এই সেক্টরের কোম্পানিগুলির বৃদ্ধির সম্ভাবনা বিপুল পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে।
কোম্পানি সম্পর্কে কিছু জরুরি তথ্য
কর্ণাটক ভিত্তিক এই সংস্থাটি মূলত চিনি উৎপাদন, ইথানল তৈরি এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। এই সংস্থার মূল উৎপাদন ইউনিটটি কর্ণাটকের কুক্কুভাদায় অবস্থিত। বর্তমানে কোম্পানিটির দৈনিক আখ মাড়াইয়ের ক্ষমতা ৪,৭৫০ টিসিডি (TCD), ইথানল উৎপাদনের ক্ষমতা ৬৫ কেএলপিডি (KLPD) এবং ২৪.৪৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সহ-উৎপাদন (Co-generation) করার ক্ষমতা রয়েছে। ফলে ব্যবসা সম্প্রসারণ ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি তৈরির বাজারে এই পেনি স্টকটি আগামী দিনে কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকে কড়া নজর রাখছেন বিনিয়োগকারীরা।
(বিশেষ দ্রষ্টব্য: শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ বাজারগত ঝুঁকির আওতাধীন। এই প্রতিবেদনে বিনিয়োগ সংক্রান্ত কোনও আর্থিক বা বাণিজ্যিক পরামর্শ দেওয়া হয়নি, কেবল বাজারে ঘটে যাওয়া তথ্য তুলে ধরা হয়েছে মাত্র। স্টকে অর্থ বিনিয়োগের আগে সার্টিফাইড আর্থিক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া বাঞ্ছনীয়। নিজ দায়িত্বে ও সচেতনতার সাথে শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করুন।)





