জ্যোতিষশাস্ত্রে শনিকে বলা হয় ‘কর্মফল দাতা’। অর্থাৎ, মানুষের কর্ম অনুযায়ী তাকে বিচার করেন এই গ্রহরাজ। অনেকের মতেই শনি সবচেয়ে কঠোর গ্রহ, কারণ যার জীবনে শনির কুদৃষ্টি পড়ে, তাকে পদে পদে কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়। বর্তমানে শনিদেব মীন রাশিতে অবস্থান করছেন এবং ২০২৭ সাল পর্যন্ত সেখানেই থাকবেন। আর এই সময়ের মধ্যেই তিন রাশির জাতক-জাতিকাদের জীবনে শুরু হতে চলেছে শনির সাড়ে সাতি ও ধাইয়ার এক অত্যন্ত জটিল পর্যায়।
বৈদিক জ্যোতিষ অনুযায়ী, শনির সাড়ে সাতি চলে টানা সাড়ে সাত বছর এবং ধাইয়ার প্রভাব থাকে আড়াই বছর। ২০২৭ সাল পর্যন্ত শনির এই বিশেষ অবস্থানের কারণে যে ৩টি রাশি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, তার মধ্যে মেষ রাশি অন্যতম। জ্যোতিষীদের মতে, এই সময়কালে জাতক-জাতিকারা ভালো কর্ম করলে যেমন পুরস্কৃত হন, তেমনই অশুভ কর্মের ফলে জীবনে আসতে পারে পাহাড়প্রমাণ বাধা, মানসিক যন্ত্রণা এবং একের পর এক বিপর্যয়।
বিশেষত মেষ রাশির জন্য এই সাড়ে সাতির সময়কাল অত্যন্ত কণ্টকাকীর্ণ হতে চলেছে। এই সময় ব্যবসায় প্রচণ্ড মন্দা দেখা দিতে পারে, নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বড় ধরনের আর্থিক লোকসানের সম্ভাবনা প্রবল। শুধু তাই নয়, আকস্মিক কোনো আর্থিক সংকটে আপনার সঞ্চিত অর্থও শেষ হয়ে যেতে পারে। কেরিয়ারের পাশাপাশি স্বাস্থ্যের দিকেও বিশেষ নজর দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন জ্যোতিষীরা, কারণ এই সময় দীর্ঘস্থায়ী রোগের প্রকোপ বাড়তে পারে।
শনি যেহেতু শৃঙ্খলার গ্রহ, তাই এই সময়কালে জীবনে সংগ্রাম ও বিলম্ব অনিবার্য। তবে ধৈর্য ও সঠিক কর্মের মাধ্যমে শনির কুপ্রভাব কমানো সম্ভব। আধ্যাত্মিক সাধনা, দুস্থ মানুষের সেবা এবং নিয়মিত শনি মন্ত্র জপ এই কঠিন সময়ে রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করতে পারে। ২০২৭ সাল পর্যন্ত সময়টি এই রাশিগুলোর জন্য একপ্রকার অগ্নিপরীক্ষার সমান।





