বিশ্ব রাজনীতির উত্তপ্ত আবহে দেশের অর্থনীতিকে মজবুত করতে একগুচ্ছ নজিরবিহীন দাওয়াই দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রবিবার হায়দরাবাদে বিজেপির একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে দেশবাসীকে একাধিক ‘কঠোর’ পরামর্শ দেন তিনি। বিদেশি মুদ্রা বা ফরেন এক্সচেঞ্জ বাঁচাতে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জানান— এই মুহূর্তে বিলাসিতা নয়, বরং সঞ্চয় এবং কৃচ্ছ্রসাধনই হোক দেশবাসীর লক্ষ্য।
সোনা কেনা ও ডেস্টিনেশন ওয়েডিংয়ে ‘না’ দেশবাসীর উদ্দেশে মোদীর প্রধান আবেদন, অন্তত এক বছরের জন্য সোনা কেনা বন্ধ রাখুন। পাশাপাশি, বিদেশে গিয়ে এলাহি ‘ডেস্টিনেশন ওয়েডিং’ করার প্রবণতা থেকেও দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর মতে, পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে ভারতের বিদেশি মুদ্রা ভাণ্ডার সুরক্ষিত রাখা অত্যন্ত জরুরি। আর সেই লক্ষ্যেই এই আবেদন।
ফিরছে কি ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ কালচার? জ্বালানি সাশ্রয় এবং পরিবেশ রক্ষায় ফের ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ বা বাড়ি থেকে কাজের সংস্কৃতিতে ফেরার ডাক দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “করোনাকালে আমরা ভিডিও কনফারেন্সিং এবং ভার্চুয়াল মিটিংয়ে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছিলাম। সেই অভ্যাস এখন আবার ফিরিয়ে আনার সময় এসেছে।” এছাড়াও ব্যক্তিগত গাড়ি কমিয়ে মেট্রো ব্যবহার এবং বৈদ্যুতিক যানের ওপর নির্ভরতা কমানোর মতো চমকপ্রদ পরামর্শও দেন তিনি।
খরচ প্রতিদিন ১৭০০ কোটি! আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়লেও ভারতের সাধারণ মানুষের ওপর যাতে তার আঁচ না পড়ে, সে জন্য সরকার বিপুল ভর্তুকি দিচ্ছে। সরকারি পরিসংখ্যান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সামাল দিতে কেন্দ্রকে প্রতিদিন ১৬০০ থেকে ১৭০০ কোটি টাকা খরচ করতে হচ্ছে। দেশবাসী যদি মাত্র ১০ শতাংশ জ্বালানি সাশ্রয় করেন, তবে প্রতিদিন প্রায় ১৬০ কোটি টাকা বাঁচানো সম্ভব।
রাহুল গান্ধীর তীব্র কটাক্ষ প্রধানমন্ত্রীর এই পরামর্শের পরই পালটা আক্রমণে নেমেছে বিরোধী শিবির। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী কটাক্ষের সুরে বলেন, “জনগণকে বারবার ত্যাগ করতে বলছেন নরেন্দ্র মোদী। সোনা কেনা, বিদেশে যাওয়া, পেট্রোল ব্যবহার— সব কিছুতেই বারণ করছেন। এটা কোনো উপদেশ নয়, বরং ১২ বছর দেশ চালানোর পর প্রধানমন্ত্রীর অপদার্থতার নজির। মানুষকে বলে দিতে হচ্ছে তারা কী খাবেন আর কী কিনবেন!”
স্বদেশী ও সাশ্রয়ে জোর বিরোধীদের সমালোচনা থাকলেও প্রধানমন্ত্রী নিজের অবস্থানে অনড়। ভোজ্য তেলের ব্যবহার কমানো, রাসায়নিক সারের বদলে অর্গানিক চাষে জোর দেওয়া এবং বিদেশি পণ্যের বদলে ‘স্বদেশী’ জিনিস ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন তিনি। বিশ্বব্যাপী সঙ্কটের এই সময়ে দেশকে সর্বাগ্রে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।





