সিজিও-তে ধুন্ধুমার! আজই কি গ্রেফতার সুজিত বসু? ছেলের হাত ধরে ইডি দপ্তরে প্রাক্তন মন্ত্রী

পুরসভা নিয়োগ দুর্নীতি মামলার জল এবার অনেকদূর গড়াতে চলেছে। সোমবার সকাল থেকেই সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে ইডি (ED) দপ্তরের সামনে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং থমথমে পরিবেশ। সকলের নজর এখন রাজ্যের প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী তথা তৃণমূলের দাপুটে নেতা সুজিত বসুর দিকে। সকাল সাড়ে দশটা বাজার আগেই বিশাল গাড়ি নিয়ে ইডি দপ্তরে হাজিরা দিলেন তিনি। তবে একা নন, সঙ্গে ছিলেন তাঁর ছেলে সমুদ্র বসু এবং দুই আইনজীবী। গোয়েন্দাদের দাবি, দক্ষিণ দমদম পুরসভার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যে বিশাল আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে, তার সুতো রয়েছে সুজিত বসুর হাতেই।

তদন্তকারীদের বয়ান অনুযায়ী, ২০১০ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ দমদম পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান থাকাকালীন কয়েকশো অযোগ্য প্রার্থীকে টাকার বিনিময়ে চাকরি দেওয়া হয়েছিল। অয়ন শীলের মতো প্রোমোটার এবং মিডলম্যানদের অফিস থেকে উদ্ধার হওয়া নথিতে সুজিত বসুর নির্বাচনী কেন্দ্রের একাধিক প্রার্থীর নাম পাওয়া গেছে। কেন্দ্রীয় সংস্থা মনে করছে, শুধু দক্ষিণ দমদম নয়, উত্তর দমদম এবং হালিশহর পুরসভাতেও এই দুর্নীতির জাল বিস্তৃত ছিল। এর আগে ভোটের সময় বারংবার হাজিরা এড়িয়েছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে প্রথম দফায় ৯ ঘণ্টা জেরার পর আজ দ্বিতীয়বারের জন্য তাঁকে ডাকা হয়েছে।

সিজিও কমপ্লেক্সে ঢোকার মুখে সুজিত বসু সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে বলেন, “আমি তদন্তে সহযোগিতা করতে সাক্ষী হিসেবে এসেছি। ব্যবসা করা তো অপরাধ নয়, চুরি করা অপরাধ।” কিন্তু রাজনৈতিক মহল মনে করছে, তাঁর এই আত্মবিশ্বাসী বয়ানের আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে গভীর আশঙ্কা। কারণ, এর আগে ইডির তল্লাশিতে তাঁর বাড়ি এবং অফিস থেকে এমন কিছু ডিজিটাল ডিভাইস ও নথি মিলেছে, যা সরাসরি নিয়োগ কেলেঙ্কারির সঙ্গে যুক্ত। এমনকি তাঁর ছেলের নামেও সমন পাঠানো হয়েছে, যা থেকে স্পষ্ট যে তদন্তের আঁচ পৌঁছেছে তাঁর অন্দরমহল পর্যন্ত।

বিজেপি ও বামফ্রন্ট নেতৃত্বের দাবি, সুজিত বসু বা রথীন ঘোষের মতো নেতারা এই দুর্নীতির হিমশৈলের চূড়ামাত্র। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস বিষয়টিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে দাবি করলেও নিয়োগ দুর্নীতির এই পাহাড়-প্রমাণ অভিযোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। বছরের পর বছর চাকরির অপেক্ষায় বসে থাকা যোগ্য প্রার্থীদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার করে কীভাবে টাকার বিনিময়ে পুরসভার পদ বিক্রি করা হল, আজ জেরার মুখে সেই রহস্যই উন্মোচন করতে চাইছেন ইডি আধিকারিকরা। এখন দেখার, দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর প্রাক্তন মন্ত্রী হাসিমুখে বাড়ি ফেরেন নাকি তাঁকে হেফাজতে নিয়ে নতুন কোনও ধামাকা দেয় কেন্দ্রীয় সংস্থা।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy