ভারতীয় সংসদের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন দিন! গত ১২ বছরে এই প্রথমবার লোকসভায় কোনো বিল পাশ করাতে গিয়ে আইনি পরাজয়ের মুখে পড়ল নরেন্দ্র মোদী সরকার। প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সমস্ত পরিকল্পনা ধুলিসাৎ করে দিয়ে ঐক্যবদ্ধ জয় ছিনিয়ে নিল বিরোধী ‘INDIA’ জোট। প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় সংসদের দরজাতেই আটকে গেল বহুচর্চিত নারী সংরক্ষণ এবং ডিলিমিটেশন (আসন পুনর্বিন্যাস) সংক্রান্ত বিলগুলি।
অঙ্ক মেলেনি সংসদে: সংবিধানের ১৩১তম সংশোধনী বিলটি লোকসভায় ভোটাভুটিতে ২৯৮টি পক্ষে এবং ২৩০টি বিপক্ষে ভোট পায়। কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী বিলটি পাশ করার জন্য অন্তত ৩৫২টি ভোটের প্রয়োজন ছিল। ভোটাভুটিতে হার নিশ্চিত হতেই সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু ডিলিমিটেশন সংক্রান্ত অপর বিলটিও প্রত্যাহারের ঘোষণা করেন। বিলে পরাজয়ের পর বিজেপি দাবি করেছে, বিরোধীরা মহিলাদের সম্মান জানানোর এক ঐতিহাসিক সুযোগ নষ্ট করেছে।
বিরোধীদের কেন এই প্রতিবাদ? কংগ্রেস, তৃণমূল-সহ বিরোধী দলগুলির অভিযোগ— নারী সংরক্ষণের আড়ালে আসলে ২০২৯ সালের আগে বড় কোনো রাজনৈতিক চক্রান্ত কষছে বিজেপি। তাদের দাবি:
দক্ষিণের ক্ষতি: ডিলিমিটেশন কার্যকর হলে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলির আসন কমে যাবে এবং উত্তর ভারতের হিন্দি বলয়ের আসন বাড়িয়ে রাজনৈতিক মানচিত্র বদলে ফেলবে বিজেপি।
আসন সংখ্যা বৃদ্ধি: লোকসভার বর্তমান ৫৪৩টি আসন বাড়িয়ে ৮৫০ করার যে চেষ্টা চলছে, তাতে আঞ্চলিক ভারসাম্য নষ্ট হবে।
জাতিগত জনগণনা: এই বিলের মাধ্যমে জাতিগত জনগণনার প্রক্রিয়াকে আরও পিছিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে বলে বিরোধীদের অভিযোগ।
মমতা ও জয়রাম রমেশের তোপ: বিলে হার নিশ্চিত হওয়ার পর তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরব হয়ে বলেন, “বিজেপি নারী সংরক্ষণের নামে আসলে দেশটাকে টুকরো টুকরো করার ষড়যন্ত্র করছে। আমরা নারী শক্তিকে সম্মান জানাই, কিন্তু আসন পুনর্বিন্যাসের নামে এই রাজনীতি মেনে নেব না।” অন্যদিকে কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ একে প্রধানমন্ত্রীর ‘বিদ্বেষপূর্ণ প্রচেষ্টার ঐতিহাসিক ব্যর্থতা’ বলে বর্ণনা করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী মোদী সদস্যদের ‘বিবেকের ডাক’ শোনার আবেদন জানালেও, শেষ পর্যন্ত বিরোধীদের সংহতির কাছে হার মানতে হলো সরকারকে। এই পরাজয় ২০২৬-এর আগে জাতীয় রাজনীতিতে বিরোধী জোটের পালে বড় হাওয়া দিল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।





