বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের চূড়ান্ত তথা দ্বিতীয় দফার মহারণে সকাল থেকেই কার্যত জনজোয়ার দেখা যাচ্ছে বুথগুলিতে। সাত জেলার ১৪২টি আসনে আজ ভাগ্যনির্ধারণ হচ্ছে যুযুধান সব শিবিরের। প্রথম দফার সেই রেকর্ড ভাঙা ভোটদানের ধারা কি আজও বজায় থাকবে? রাজনৈতিক মহলের এই কৌতূহলের মাঝেই নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে প্রকাশিত সকাল ১১টার পরিসংখ্যান অত্যন্ত ইতিবাচক ইঙ্গিত দিচ্ছে।
কমিশন সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সকাল ১১টা পর্যন্ত রাজ্যে সামগ্রিকভাবে ভোট পড়েছে ৩৯.৯৭ শতাংশ। জেলাভিত্তিক লড়াইয়ে এই মুহূর্তে সবাইকে ছাপিয়ে ‘ফার্স্ট বয়’ তকমা ছিনিয়ে নিয়েছে পূর্ব বর্ধমান। সেখানে ভোটদানের হার পৌঁছেছে ৪৪.৫০ শতাংশে। গ্রাম বাংলার মানুষ যে রোদ-গরম উপেক্ষা করেই নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগে মরিয়া, এই পরিসংখ্যান তারই প্রমাণ।
অন্যদিকে, দক্ষিণ কলকাতার চিত্রটি কিছুটা ভিন্ন। তিলোত্তমার দক্ষিণে সকালের দিকে ভোটদানের গতি তুলনামূলকভাবে কিছুটা মন্থর। ১১টা পর্যন্ত এখানে ৩৬.৭৮ শতাংশ ভোট পড়েছে, যা এখনও পর্যন্ত সাত জেলার মধ্যে সর্বনিম্ন। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শহরাঞ্চলেও লাইনের দৈর্ঘ্য বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
নির্বাচন প্রক্রিয়াকে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ করতে নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে ১৪২টি কেন্দ্রকেই। এনআইএ (NIA), কয়েক হাজার কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং রাজ্য পুলিশের ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয় মোতায়েন রয়েছে। গ্রাম থেকে শহর— সর্বত্রই কড়া নজরদারি চালাচ্ছে কমিশন। প্রথম দফায় বাংলা ভোটদানের হারে নজির গড়েছিল; ১১টার গতিপ্রকৃতি দেখে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দিনের শেষে সেই রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস তৈরি হতে পারে আজ।





