ভোট মানেই কি শুধু কড়া অনুশাসন? নাকি তাতে মিশবে বিনোদনের মশলাও? দক্ষিণ কলকাতার জেলা নির্বাচন আধিকারিকের (DEO) একটি সাম্প্রতিক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে এই প্রশ্নই এখন তুঙ্গে। সৌজন্যে— আমির খান ও মাধুরী দীক্ষিত অভিনীত ‘দিল’ ছবির কালজয়ী গান আর সঙ্গে ‘বার্নল-বোরোলিন’ ব্যবহারের এক বিচিত্র পরামর্শ!
ঠিক কী ছিল সেই পোস্টে?
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে সচরাচর নির্ভয়ে ভোট দেওয়ার বার্তা দেওয়া হয়। কিন্তু দক্ষিণ কলকাতার ডিইও-র পেজ থেকে শেয়ার করা পোস্টে দেখা যায় এক অন্য রূপ:
গানের কলি: শেয়ার করা হয় ‘হাম প্যায়ার করনে ওয়ালে… ইয়ার জ্বলনে ওয়ালে কো জ্বালায়েঙ্গে…’ গানের লিঙ্ক।
বিস্ফোরক ক্যাপশন: ভোটারদের নির্ভয়ে বুথে আসার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি ‘গুন্ডা’ ও ‘দাগী অপরাধীদের’ সতর্ক করে লেখা হয়— তাঁরা যেন আগেভাগেই ‘বার্নল’ ও ‘বোরোলিন’ মজুত রাখেন!
রে রে করে নামল তৃণমূল: শোকজ ডিইও
এই পোস্ট সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে যায়। তীব্র প্রতিবাদ জানায় ঘাসফুল শিবির।
তৃণমূলের অভিযোগ: দলের দাবি, একজন সরকারি আধিকারিক হয়ে এমন ‘চটুল’ ও ‘কটাক্ষপূর্ণ’ ভাষা ব্যবহার করা নির্বাচনী আচরণবিধির (Model Code of Conduct) পরিপন্থী।
অপসারণের দাবি: অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট আধিকারিককে পদ থেকে সরানোর দাবি জানিয়ে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়ালকে চিঠি দিয়েছে তৃণমূল।
মমতার ‘আইসক্রিম’ দাওয়াই
বিতর্ক আরও উসকে দিয়েছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে তাঁর রসিকতা মিশ্রিত পালটা মন্তব্য, “এত গরমে বার্নল কেন? আমরা সবাইকে আইসক্রিম খাওয়াব, যাতে মাথা ঠান্ডা থাকে।” তবে একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, সরকারি আধিকারিকরা কি এভাবে ভোটার বা আধিকারিকদের ‘পুড়িয়ে দেওয়ার’ হুমকি দিতে পারেন?
কমিশনের পদক্ষেপ
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক বিষয়টি হালকাভাবে নিচ্ছেন না। দক্ষিণ কলকাতার ডিইও-র কাছে ইতিমধ্যেই এই ‘ফিল্মি’ পোস্টের উদ্দেশ্য ও কারণ ব্যাখ্যা করে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করা হয়েছে। কমিশনের অন্দরে প্রশ্ন উঠছে, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে গিয়ে কি মাত্রা ছাড়িয়ে ফেললেন ওই আধিকারিক?
রিপোর্ট আসার পরেই পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। আপাতত সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সেই বিতর্কিত পোস্টটি সরিয়ে ফেলা হলেও, রাজনৈতিক তরজা কিন্তু থামছে না।





