লোকসভা নির্বাচনের আবহে রণক্ষেত্র হুগলির গোঘাট। তৃণমূল সাংসদ মিতালি বাগের গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে এলাকায়। হামলার অভিযোগ উঠেছে বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত অবস্থায় সাংসদকে আরামবাগ মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করা হয়েছে। আর এই ঘটনার পরেই রণংদেহি মেজাজে ধরা দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
“আমি মমতার মতো উদার নই!”
আহত সাংসদকে হাসপাতালে দেখে বেরিয়ে আরামবাগের পল্লীশ্রী মোড়ের জনসভা থেকে কার্যত হুঁশিয়ারির সুর চড়ান অভিষেক। তিনি সাফ জানান, ৪ জুনের পর পরিস্থিতি বদলে যাবে। অভিষেকের কথায়:
“গতবার এই অঞ্চলগুলোতে আমরা হেরেছিলাম, তাও উদারতা দেখিয়েছি। কিন্তু ৪ তারিখের পর কার কত ক্ষমতা আর দিল্লি থেকে কে বাঁচাতে আসে, আমি সব দেখে নেব। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উদার হতে পারেন, কিন্তু আরামবাগের স্টিয়ারিং আমার হাতে থাকবে। আমি অতটা উদার নই।”
হামলার নেপথ্যে কারা?
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, যারা একসময় সিপিএমের হয়ে সন্ত্রাস চালাত, তারাই এখন বিজেপির ঝাণ্ডা ধরে এলাকায় অশান্তি করছে। তিনি বলেন, “যারা সিপিএমের সন্ত্রাস ফিরিয়ে আনতে চাইছে, আরামবাগের মানুষ তাদের মেনে নেবে না। এই হামলার সঙ্গে যারা যুক্ত, তাদের ভবিষ্যৎ খুব কঠিন হতে চলেছে।”
অভিষেকের ‘ডেডলাইন’ ও বড় প্রতিশ্রুতি
ভোটের মুখে সাধারণ মানুষকে নির্ভয়ে বুথে যাওয়ার বার্তা দিয়ে অভিষেক বলেন:
ভয়কে জয়: “২৮-২৯ তারিখ যদি মানুষ ভয়কে জয় করতে পারেন, তবেই আরামবাগে স্থায়ী শান্তি ফিরবে।”
নতুন জেলা: আরামবাগের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে এলাকাটিকে আলাদা জেলা করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
শেষ খেলা: হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “খেলা যখন ওরা শুরু করেছে, শেষটা আমিই করব। এমনভাবে ভোট দিন যাতে ৪ তারিখের পর বিজেপির পতাকা ধরার লোক না থাকে।”
সাংসদ মিতালি বাগের ওপর এই হামলা এবং পরবর্তীতে অভিষেকের এই ‘আক্রমণাত্মক’ মেজাজ ভোটের আগে হুগলির রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। এখন দেখার, ৪ মে-র পর অভিষেকের এই হুঁশিয়ারি কোন দিকে মোড় নেয়।





