বিধানসভার পর এবার কি লোকসভাতেও বড়সড় ভাঙনের মুখে তৃণমূল কংগ্রেস? রাজ্য রাজনীতির অলিন্দে এখন একটাই চর্চা—দিল্লিতে কি তৃণমূলের সংসদীয় দলের নেতৃত্ব পরিবর্তনের সময় এসে গেছে? কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে, বারাসতের চারবারের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে লোকসভায় তৃণমূলের নতুন দলনেতা হিসেবে দেখতে চাইছে দলের একাংশ। এই জল্পনা আরও ঘনীভূত হয়েছে তাঁর সাম্প্রতিক বিস্ফোরক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের পর।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে চার দশকেরও বেশি সময়ের সম্পর্ক কাকলি ঘোষ দস্তিদারের। তৃণমূল সুপ্রিমোর অত্যন্ত আস্থাভাজন এই নেত্রী একসময় লোকসভায় দলের মুখ্য সচেতক (Chief Whip) ছিলেন। কিন্তু মাসখানেক আগে সেই দায়িত্ব কেড়ে নিয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পদচ্যুতিই ছিল ফাটলের প্রথম ধাপ। এরপর ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাক-এর (I-PAC) বিরুদ্ধে প্রকাশ্য ক্ষোভ উগরে দিয়ে দলের সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা দেন তিনি। কাকলির স্পষ্ট অভিযোগ, আইপ্যাকের হস্তক্ষেপেই দলের এই দুরবস্থা।
এই রাজনৈতিক ডামাডোলের মধ্যেই মোদী সরকার হঠাতই কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নিরাপত্তা বাড়িয়ে দেওয়ায় জল্পনার পারদ চড়েছে। রাজ্য রাজনীতির অন্দরে গুঞ্জন, তৃণমূলের প্রাক্তন সহযোদ্ধা তথা বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে কোনো পর্দার আড়ালের আঁতাত তৈরি হয়েছে কি না। বিধানসভার সাংসদদের মতোই লোকসভার সদস্যদের মধ্যেও ভাঙন এখন সময়ের অপেক্ষা বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
সূত্রের খবর, আগামী রবিবার প্রায় ২০ জন তৃণমূল সাংসদ এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসতে চলেছেন। পরিকল্পনা সফল হলে, সোমবার দিল্লিতে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বৈঠকের দিনই লোকসভার স্পিকারের কাছে এই সাংসদদের স্বাক্ষরিত চিঠি জমা পড়তে পারে। সেই চিঠিতেই লোকসভায় তৃণমূলের নতুন নেতা হিসেবে কাকলির নাম প্রস্তাব করা হতে পারে।
এই জল্পনার মধ্যেই শুক্রবার ‘এক্স’ হ্যান্ডেলে কাকলি লিখেছেন, “চারবারের সাংসদ হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে থেকে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়েছি। এটা কি কেবল নিজের কথা ভাবা? এটি নীতির বিরুদ্ধে রায় এবং শাসনের ব্যর্থতা।” নিজের পোস্টে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, চার দশকের ত্যাগ স্রেফ স্বার্থের জন্য নয়। তৃণমূলের বর্তমান ভরাডুবির জন্য তিনি সরাসরি দলের নীতিগত ভুল ও প্রশাসনিক ব্যর্থতাকে দায়ী করেছেন। সোমবারের দিল্লি সফর কি তবে তৃণমূলের জন্য নতুন কোনো সংকট বয়ে আনবে? উত্তর লুকিয়ে আছে আগামী ৪৮ ঘণ্টার ঘটনাক্রমের মধ্যেই।





