কলকাতার ঐতিহ্যবাহী সুরেন্দ্রনাথ কলেজে এক অভাবনীয় ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। কলেজের ইউনিয়ন রুমের ভেতরে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার হয়েছে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ লক্ষ টাকা। তবে এই বিপুল পরিমাণ নোটের অবস্থা দেখে হতবাক পুলিশ ও স্থানীয়রা। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে আলমারিতে পড়ে থাকায় দুই ব্যাগ ভর্তি ওই টাকার বড় অংশই উইপোকার আক্রমণে নষ্ট হয়ে গেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি।
সূত্রের খবর, কলেজের অভ্যন্তরীণ একটি কাজে ইউনিয়ন রুমে ঢোকার পরই উদ্ধার হয় এই দুই ব্যাগ। ব্যাগ খুলতেই দেখা যায়, বান্ডিল বান্ডিল নোটের বেশিরভাগই উইপোকার অত্যাচারে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এই বিপুল পরিমাণ টাকার নেপথ্যে রয়েছেন তৃণমূল নেতা দেবাশীষ বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগ, কলেজের ইউনিয়ন রুমকে ব্যক্তিগত জমানোর জায়গা হিসেবে ব্যবহার করতেন তিনি। এই টাকা কোথা থেকে এল, কার টাকা—তা নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা।
ঘটনার পরই শাসকদলের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন বিজেপির বর্ষীয়ান নেতা ও বিধায়ক দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, “সুরেন্দ্রনাথ কলেজে উইপোকা টাকা খাচ্ছে, আর এ রাজ্যে তৃণমূল নেতা-মন্ত্রীরা মানুষ ও রাজ্যের সম্পদ লুট করছে। এই কলেজের ইউনিয়ন রুমের ঘটনা থেকেই বোঝা যায়, তৃণমূল জমানায় দুর্নীতি কোন পর্যায়ে পৌঁছেছে। আমি নিশ্চিত, এই বিপুল পরিমাণ টাকার কথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের শীর্ষ নেতৃত্ব জানতেন। আসলে এগুলো সব দুর্নীতির টাকা, যা ইউনিয়ন রুমে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।”
দিলীপ ঘোষ আরও বলেন, “রাজ্যের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে তৃণমূলের পার্টি অফিসে পরিণত করা হয়েছে। কলেজের রুমে লক্ষ লক্ষ টাকা উদ্ধার হওয়া প্রমাণ করে যে, এই সরকার শুধুমাত্র শিক্ষার পরিবেশই নষ্ট করেনি, শিক্ষাঙ্গনকে অপরাধমূলক কার্যকলাপের আখড়ায় পরিণত করেছে। এর যথাযথ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন এবং যারা এই টাকার উৎস, তাদের মুখোশ খুলে দেওয়া দরকার।”
এদিকে, এই ঘটনায় তৃণমূলের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে দেবাশীষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ঘিরে দলের অন্দরে অস্বস্তি বেড়েছে। কলেজের পড়ুয়াদের একাংশের অভিযোগ, দেবাশীষের এই কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অনেক আগে থেকেই কানাঘুষো শোনা যাচ্ছিল, কিন্তু তাঁর প্রভাবের কারণে কেউ মুখ খোলার সাহস পায়নি।
পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। ওই ব্যাগগুলিতে ঠিক কত টাকা ছিল এবং সেগুলি কীভাবে নষ্ট হলো, তার বিস্তারিত জানতে ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি, দেবাশীষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সুরেন্দ্রনাথ কলেজে এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর শিক্ষার মন্দিরে দুর্নীতির কালো ছায়া নিয়ে সর্বত্র নিন্দার ঝড় উঠেছে। এখন দেখার বিষয়, পুলিশি তদন্তে ঠিক কী উঠে আসে এবং এই টাকার আসল মালিক কে।





