বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্র বদলে যেতেই কি টলিপাড়ার সমীকরণও বদলে গেল? ২৩ বছর ধরে যে মানুষটি নিজেকে রাজনীতির অলিন্দ থেকে সযত্নে সরিয়ে রেখেছিলেন, সেই সুপারস্টার জিৎকে দেখা গেল রাজনীতির মহামঞ্চে। রবিবাসরীয় সকালে ব্রিগেডের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে জিতের উপস্থিতি এখন টলিপাড়ার সবচেয়ে আলোচিত বিষয়।
টলিউডে পা রাখার পর থেকে ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে জল্পনা ছিলই যে, জীতেন্দ্র মদনানি তথা জিতের ব্যক্তিগত পছন্দ গেরুয়া শিবির। তবে বিগত দু’দশকেরও বেশি সময়ে কোনও রাজনৈতিক মিছিল বা দলীয় কর্মসূচিতে তাঁকে দেখা যায়নি। এমনকি তৃণমূল জমানায় টলিউড ফেডারেশন বা ডিরেক্টরস গিল্ডের কোনও বিবাদ বা ‘ব্যান কালচার’ নিয়েও কখনও উচ্চবাচ্য করেননি তিনি। সব বিতর্ক থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখা সেই ‘বস’ এবার পা রাখলেন ব্রিগেডের ভিড়ে।
সাদা পাঞ্জাবিতে নতুন অবতার এদিন সকাল থেকেই ব্রিগেডের অনুষ্ঠানে নজর ছিল সবার। টলিউডের পরিচিত মুখ যারা বিজেপির সমর্থক হিসেবে পরিচিত, তাদের দেখা মিললেও জিতের আসাটা ছিল কার্যত কল্পনার বাইরে। চোখে সানগ্লাস, পরনে ধবধবে সাদা পাঞ্জাবি— বডিগার্ড পরিবেষ্টিত হয়ে যখন জিৎ অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করলেন, তখন উপস্থিত জনতার মধ্যে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।
তৃণমূল জমানায় দূরত্ব, এখন অন্য সমীকরণ? গত ১৫ বছরে টলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে বহু রাজনৈতিক ঝড় বয়ে গিয়েছে। তৃণমূলের একাধিক হেভিওয়েট তারকা রাজনীতিতে সক্রিয় থাকলেও জিৎ ছিলেন নীরব। তবে বঙ্গে পদ্ম ফুটতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন তিনি। আর এবার সরাসরি শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি কি নিজের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করে দিলেন? রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, দেবের মতো জিৎও কি এবার সক্রিয় রাজনীতির ইনিংসে নামতে চলেছেন?
টলিপাড়ার ভোলবদল নির্বাচনের ফলাফলের পর টলিউডের চেনা ছবিটা অনেকটা বদলে গিয়েছে। তৃণমূলের তারকা প্রার্থীরা যখন কিছুটা অন্তরালে, তখন প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছেন গেরুয়া সমর্থিত অভিনেতা-অভিনেত্রীরা। সেই তালিকায় জিতের নাম সবার আগে আসায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে— পর্দার ‘বস’ কি এবার বাস্তবের রাজনীতির ময়দানেও নেতৃত্ব দেবেন?
এখনও পর্যন্ত জিৎ নিজে সক্রিয় রাজনীতিতে যোগদানের বিষয়ে সরাসরি কিছু না জানালেও, রবিবারের ব্রিগেডের এই উপস্থিতি এক গভীর ইঙ্গিত বহন করছে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। সব মিলিয়ে জিতের এই ‘নতুন অবতার’ এখন বাংলা বিনোদন ও রাজনৈতিক জগতের হট টপিক।





