মঙ্গলবার ভোরে যখন সবেমাত্র দিনের আলো ফুটছে, ঠিক তখনই এক ভয়াবহ ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল মণিপুর। উত্তর-পূর্ব ভারতের এই রাজ্যে রিখটার স্কেলে ৫.২ মাত্রার শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয়। আজ সকাল ৫টা ৫৯ মিনিট নাগাদ কম্পন শুরু হতেই তীব্র আতঙ্কে ঘুম ভেঙে যায় সাধারণ মানুষের। ইম্ফল-সহ রাজ্যের একাধিক জেলায় মানুষ ঘর ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন।
ভূমিকম্পের উৎস ও তীব্রতা:
ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (NCS) জানিয়েছে, এই ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল মণিপুরের কামজং জেলা। ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬২ কিলোমিটার গভীরে ছিল এই কম্পনের উৎসস্থল। তীব্রতা এতটাই প্রবল ছিল যে, মণিপুর ছাড়াও অসম, মিজোরাম এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকায় কম্পন অনুভূত হয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, মূল কম্পনের ঠিক কিছুক্ষণ আগেই মায়ানমারে ৪.৬ মাত্রার একটি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছিল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইন্দো-মায়ানমার টেকটোনিক বাউন্ডারিতে অবস্থানের কারণেই এই অঞ্চলটি অত্যন্ত ভূমিকম্পপ্রবণ।
ক্ষয়ক্ষতির বর্তমান চিত্র:
প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনো প্রাণহানি বা বড় ধরনের পরিকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে কামজং ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলিতে আতঙ্কের রেশ কাটেনি। রাজ্য প্রশাসন ও জরুরি পরিষেবা সংস্থাগুলি পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে। বিদ্যুৎ বা যোগাযোগ ব্যবস্থায় এখনও কোনো বড় ব্যাঘাত ঘটেনি।
প্রশাসনের সতর্কবার্তা:
এনসিএস-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, পরবর্তী কয়েক ঘণ্টায় ‘আফটারশক’ বা মৃদু কম্পনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। প্রশাসন সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকতে বলেছে এবং কোনো গুজব না ছড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে। আপৎকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি পরিষেবাগুলিকে ‘হাই অ্যালার্টে’ রাখা হয়েছে। সকাল সাড়ে ১১টা পর্যন্ত পরিস্থিতি স্থিতিশীল বলে জানা গেছে।





