সই জালিয়াতি কাণ্ডে সিআইডির জালে অভিষেক! ফের তলব ভবানী ভবনে, অস্বস্তিতে তৃণমূল

বিধানসভার বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়াকে ঘিরে দানা বাঁধা সই জালিয়াতি মামলায় রাজ্যের রাজনৈতিক পারদ এখন তুঙ্গে। এই বিতর্কিত মামলায় তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে সিআইডি-র তদন্ত প্রক্রিয়া ক্রমশ আরও জোরদার হচ্ছে। দীর্ঘ প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর, তদন্তের প্রয়োজনে তাঁকে পুনরায় ভবানী ভবনে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন গোয়েন্দারা।

তদন্তের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সেই বিতর্কিত ‘রেজোলিউশন বুক’। সিআইডির দাবি, বিধায়কদের সম্মতির ভিত্তিতে বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের যে প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার কথা বলা হয়েছিল, তার অরিজিনাল বা মূল নথিটি এখন রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ। তদন্তকারীদের মতে, এই রেজোলিউশন বুকটিই মামলার চাবিকাঠি। এটি উদ্ধার হলে সহজেই স্পষ্ট হয়ে যাবে যে প্রকৃত স্বাক্ষর কতগুলি ছিল এবং ঠিক কতগুলি সই জাল করা হয়েছে। ইতিমধ্যে এই নথি উদ্ধারের জন্য বিভিন্ন দলীয় কার্যালয় এবং অভিষেকের বাসভবনসহ একাধিক স্থানে তল্লাশি চালানো হয়েছে, কিন্তু এখনও পর্যন্ত সাফল্যের মুখ দেখেনি সিআইডি।

জিজ্ঞাসাবাদের সময় গোয়েন্দাদের জেরার মুখে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে একাধিক জটিল প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়। স্পিকারের কাছে জমা দেওয়া রেজোলিউশনের প্রতিলিপিতে ৭০ জন বিধায়কের যে সই থাকার দাবি করা হয়েছিল, সেই তালিকা নিয়েই সিআইডির সন্দেহ প্রবল। গোয়েন্দাদের নজরে এসেছে যে, ওই তালিকায় অনেকের নাম শুধুমাত্র ইংরেজির বড় হাতের অক্ষরে লেখা রয়েছে। একজন বিধায়কের স্বাক্ষর কীভাবে শুধুমাত্র বড় হাতের অক্ষরে নাম হতে পারে, তা নিয়ে তদন্তকারীদের মনে গভীর সংশয় তৈরি হয়েছে। ওই নামগুলি আদৌ সংশ্লিষ্ট বিধায়কদের নিজের হাতে লেখা কি না, তা যাচাই করার প্রক্রিয়া চলছে।

বৃহস্পতিবার বিকেল পৌনে ছয়টা নাগাদ নিজের গাড়ি নিয়ে ভবানী ভবনে প্রবেশ করেন অভিষেক। অত্যন্ত কড়া নিরাপত্তার বলয়ে ঢাকা ছিল পুরো চত্বর। দীর্ঘ সময় ধরে চলে এই ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ। তবে পুরো সময়টিতেই তিনি ছিলেন সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের বিষয়ে নীরব। জিজ্ঞাসাবাদ শেষ করে বেরোনোর সময়ও উপস্থিত সংক্রান্ত নথিতে সই করা ছাড়া আর কোনও মন্তব্য করেননি তিনি।

সিআইডি সূত্রে খবর, গতবারের জিজ্ঞাসাবাদে একাধিক প্রশ্নের উত্তর অস্পষ্ট থেকে গেছে। বিধায়কদের সম্মতি নেওয়ার প্রক্রিয়া, সেই বৈঠকে কারা উপস্থিত ছিলেন এবং সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ—মূল রেজোলিউশন বুকটি কোথায়—এই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজতেই অভিষেককে ফের তলব করা হয়েছে। সই জালিয়াতির এই অভিযোগ যে তৃণমূলের অন্দরে বড়সড় অস্বস্তি তৈরি করেছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এখন তদন্ত শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয় এবং অরিজিনাল নথি আদৌ উদ্ধার হয় কি না, তা নিয়ে সরগরম রাজ্য রাজনীতি।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy