শ্মশানে পুঁতে রাখা দম্পতির কঙ্কাল! ছত্তিশগড়ে জোড়া খুনের ঘটনায় শিউরে ওঠা রহস্যভেদ

ছত্তিশগড়ের গরিয়াবন্দ জেলায় এক নৃশংস জোড়া খুনের ঘটনায় রীতিমতো স্তম্ভিত স্থানীয় প্রশাসন ও বাসিন্দারা। গ্রাম্য রাজনীতির কোন্দল বা জমিজমা সংক্রান্ত পুরনো শত্রুতা যে কতটা ভয়ংকর রূপ নিতে পারে, তা ফের একবার প্রমাণ করল গরিবা গ্রামের এই ঘটনা। সপ্তাহকাল নিখোঁজ থাকার পর অবশেষে একটি শ্মশান থেকে উদ্ধার হলো দম্পতির বস্তাবন্দি দেহ।

নিহত দম্পতির নাম রাজারাম নেতাম ও তাঁর স্ত্রী আশো বাঈ নেতাম। গত ৬ জুন থেকে তাঁদের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। গ্রামবাসীরা প্রথমে তাঁদের নিখোঁজ হওয়াকে স্বাভাবিক ঘটনা ভেবেছিলেন, কিন্তু রহস্যের পর্দা ওঠে একদম ভিন্ন উপায়ে। গত কয়েকদিন আগে গ্রামের অন্য এক ব্যক্তির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করতে শ্মশানে গিয়েছিলেন এলাকাবাসীরা। সেখানে গিয়ে তাঁরা দুটি পৃথক স্থানে নতুন মাটি খুঁড়ে রাখা ঢিবি দেখতে পান। শ্মশানে আচমকা নতুন করে মাটি খোঁড়ার কারণ জানতে পেরে গ্রামবাসীদের মনে তীব্র সন্দেহের উদ্রেক হয়। তাঁরা দ্রুত বিষয়টি পুলিশকে জানান।

শোভা থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পবন ভার্মা ও তাঁর দল তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পুলিশি তত্ত্বাবধানে শ্মশানের ওই নির্দিষ্ট স্থান খনন করা হয়। মাটি খুঁড়তেই বেরিয়ে আসে দুটি বস্তা, যার ভেতরে ছিল রাজারাম নেতাম ও তাঁর স্ত্রী আশো বাঈ নেতামের গলিত দেহ। এই দৃশ্য দেখে শিউরে ওঠেন উপস্থিত পুলিশকর্মী ও গ্রামবাসীরা। পুলিশি প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, পুরনো শত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবেই এই খুন করা হয়েছে। লাঠি দিয়ে পিটিয়ে দম্পতিকে হত্যার পর প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যেই মৃতদেহগুলো শ্মশানে পুঁতে ফেলেছিল খুনিরা।

দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে পুলিশ একই গ্রাম থেকে তিন অভিযুক্ত—লক্ষীরাম নেতাম, রঘুরাম নেতাম এবং নকুল রাম নেতামকে গ্রেপ্তার করেছে। অভিযুক্তরা পুলিশি জেরার মুখে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছে বলে জানা গেছে। মৃতদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়দের দাবি, দম্পতির ওপর এই নির্মম অত্যাচারের পেছনে আর কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখুক পুলিশ। শোকাতুর স্বজনদের কান্না আর এই নৃশংসতার খবরে থমথমে গরিবা গ্রাম। পুলিশ জানিয়েছে, আইন অনুযায়ী অপরাধীদের কঠোরতম শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy