নতুন বছর মানেই উৎসব, আর রাজনীতির আঙিনায় নতুন সমীকরণ। পহেলা বৈশাখের পুণ্যলগ্নে রাজ্যবাসীকে শুভেচ্ছাবার্তা দিলেও আক্রমণের মেজাজেই ধরা দিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সরাসরি নাম না করে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে ‘দিল্লির জমিদার’ তকমা দিয়ে রাজ্যের ২৯৪টি আসনেই জোড়াফুল চিহ্নে ভোট দেওয়ার আর্জি জানালেন মুখ্যমন্ত্রী।
শুভেচ্ছায় রবীন্দ্রস্মরণ, লক্ষ্যে নির্বাচন: বুধবার সকালে ফেসবুক ও এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেলে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘এসো হে বৈশাখ’ কবিতাটি উদ্ধৃত করে রাজ্যবাসীকে শুভেচ্ছা জানান মমতা। কিন্তু শুভেচ্ছার রেশ কাটতে না কাটতেই তাঁর কলমে উঠে আসে কড়া রাজনৈতিক বার্তা। তিনি অভিযোগ করেন, বাংলার সম্প্রীতির পরিবেশকে কিছু ‘অশুভ শক্তি’ নষ্ট করার চেষ্টা করছে এবং দিল্লির নেতারা সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার তথা ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে।
৩২ লক্ষ মানুষের নাম ও ভোটাধিকার রক্ষা: ভিডিয়ো বার্তায় আরও বিস্ফোরক দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “৩২ লক্ষ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার চক্রান্ত হয়েছিল। আমরা সুপ্রিম কোর্টে লড়াই করে সেই অধিকার ফিরিয়ে এনেছি।” নাগরিকত্ব বা ভোটাধিকার হারানোর ভয়ে যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের পরিবারের প্রতিও গভীর সমবেদনা জানান তিনি। মমতার স্পষ্ট বার্তা, “একটি পরিবারের চারজনের মধ্যে একজনের ভোট কেড়ে নেওয়া হবে—এই অবিচার আমরা মেনে নেব না।”
মমতার মূল বার্তাগুলো একনজরে:
উন্নয়নের কার্ড: জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত রাজ্য সরকারের ১০৫টি সামাজিক প্রকল্পের কথা মনে করিয়ে দেন তিনি।
এজেন্সি ও ওয়াশিং মেশিন: কেন্দ্রীয় এজেন্সির অপব্যবহার এবং বিজেপির ‘ওয়াশিং মেশিন’ রাজনীতিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী।
২৯৪ কেন্দ্রেই লক্ষ্য ‘মমতা’: দলীয় কর্মী ও সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে তাঁর স্পষ্ট বার্তা— “২৯৪টি কেন্দ্রে প্রার্থী যেই হোন না কেন, মনে রাখবেন ভোটটা আমাকেই দিচ্ছেন।”
গণতন্ত্রের উৎসব বনাম সংঘাত: রাজ্যে কোনো রক্তপাত বা সাম্প্রদায়িক হিংসার স্থান নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। আসন্ন নির্বাচনকে ‘গণতন্ত্রের উৎসব’ হিসেবে পালন করার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি বিরোধীদের অপপ্রচারে কান না দেওয়ারও পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। নববর্ষের সকালেই মুখ্যমন্ত্রীর এই রাজনৈতিক সংকল্প বুঝিয়ে দিচ্ছে, এবারের ভোটের ময়দানে এক ইঞ্চি জমিও ছাড়তে নারাজ তিনি।





