মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর আর এক মুহূর্ত সময় নষ্ট করতে রাজি নন শুভেন্দু অধিকারী। দায়িত্ব নিয়েই রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কড়া হাতে নিয়ন্ত্রণে আনতে কোমর বেঁধে নামছেন তিনি। সোমবার বিকেলে নবান্নে প্রথম ‘অফিসিয়াল’ প্রশাসনিক বৈঠকে বসতে চলেছেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী। আর এই প্রথম বৈঠকেই তাঁর নিশানায় রাজ্যের পুলিশ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
১. লক্ষ্য যখন নবান্ন: রবিবারেও তৎপর পুলিশ কমিশনার
সোমবার বিকেল ৫টায় নবান্ন সভাঘরে এই হাই-ভোল্টেজ বৈঠকটি হওয়ার কথা। তার আগে রবিবার ছুটির দিনেও বিন্দুমাত্র বিরাম ছিল না প্রশাসনিক মহলে। সকালেই নবান্ন এবং তার আশপাশের এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে সশরীরে হাজির হন কলকাতা পুলিশের কমিশনার অজয় নন্দ। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বাহিনীর একাধিক শীর্ষ আধিকারিক। নবান্নের প্রবেশপথ থেকে শুরু করে নিরাপত্তা ব্যারিকেড ও নজরদারি ব্যবস্থা— নিখুঁত প্রস্তুতিতে কোনও ফাঁক রাখতে চাইছে না লালবাজার।
২. এক ছাদের তলায় রাজ্যের গোটা পুলিশ প্রশাসন
সূত্রের খবর, সোমবারের এই বৈঠকে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে রাজ্যের সমস্ত জেলার পুলিশ সুপার (SP), প্রতিটি কমিশনারেটের পুলিশ কমিশনার এবং রেল পুলিশের শীর্ষ কর্তাদের। এখানেই শেষ নয়, সিআইডি (CID), এসটিএফ (STF), ইন্টেলিজেন্স ব্রাঞ্চ (IB), ট্র্যাফিক ও উপকূল নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ শাখার আধিকারিকদেরও এই বৈঠকে তলব করা হয়েছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রথম বৈঠকেই রাজ্যের গোটা পুলিশি কাঠামোকে এক ছাদের তলায় এনে কড়া বার্তা দিতে চাইছেন শুভেন্দু।
৩. কী থাকছে আলোচনার টেবিলে?
নির্বাচনের প্রচার পর্ব থেকেই রাজ্যে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করাকে অন্যতম প্রধান ইস্যু করেছিল বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর সেই পথেই হাঁটছেন শুভেন্দু অধিকারী। নবান্ন সূত্রে খবর, সোমবারের বৈঠকে মূলত পাঁচটি বিষয়ে জোর দেওয়া হতে পারে:
বিভিন্ন জেলায় রাজনৈতিক সংঘর্ষ রুখতে কড়া পদক্ষেপ।
সীমান্তবর্তী এলাকার নিরাপত্তা ও অনুপ্রবেশ রোখা।
সাইবার অপরাধ ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা।
বিভিন্ন পুলিশ ইউনিটের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো।
গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দফতর ও শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা।
৪. আমলাতন্ত্রে পরিবর্তনের ইঙ্গিত?
শুভেন্দু অধিকারীর এই প্রথম বৈঠক ঘিরে নবান্নের অন্দরে চাপা উত্তেজনা ও জল্পনা তুঙ্গে। নতুন সরকারের কাজের ধরন এবং প্রশাসনিক অগ্রাধিকার ঠিক কী হতে চলেছে, তার স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলতে পারে এই বৈঠক থেকেই। প্রশাসনের ওপর দ্রুত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করাই যে এখন নতুন মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান লক্ষ্য, তা বলাই বাহুল্য।





