নদীয়ার শান্তিপুর স্টেশনের নাম পরিবর্তন করে “শান্তিপুর ধাম” করার প্রস্তাব নিয়ে কেন্দ্রের দ্বারস্থ হলেন রানাঘাট লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ জগন্নাথ সরকার। শুক্রবার দিল্লিতে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের সঙ্গে এক বৈঠকে সাংসদ রেল সংক্রান্ত পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়নমুখী বিষয় উত্থাপন করেন, যার মধ্যে এই নাম পরিবর্তনের আর্জিও অন্তর্ভুক্ত। সাংসদ তাঁর প্রস্তাবের সপক্ষে যুক্তি দিয়েছেন যে, শান্তিপুর দেশ-বিদেশে একটি পবিত্র ভূমি হিসেবে পরিচিত, তাই এই নাম পরিবর্তন অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত।
রাজ্য বিজেপি সূত্রে এই খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব ছাড়াও, সাংসদ জগন্নাথ সরকার রেলমন্ত্রীর কাছে আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দাবি পেশ করেছেন, যা এলাকার উন্নয়ন ও জনস্বার্থের সঙ্গে জড়িত:
১. স্থায়ী হকার্স কর্নার: সাংসদ শান্তিপুর স্টেশন প্রাঙ্গণে একটি স্থায়ী ও সুশৃঙ্খল হকার্স কর্নার নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছেন। তাঁর যুক্তি, এর ফলে স্থানীয়দের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং একই সাথে রেলওয়েও আর্থিকভাবে লাভবান হবে।
২. শান্তিপুর–নবদ্বীপ ঘাট রেল পরিষেবা: দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত শান্তিপুর–নবদ্বীপ ঘাট রেল পরিষেবা দ্রুত চালুর জন্য সাংসদ বিশেষভাবে আবেদন জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই রুট ধর্মীয় ও পর্যটন উভয় দিক থেকেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এর চালু হলে বহু ভক্ত ও পর্যটকের সুবিধা হবে।
৩. রানাঘাট রেল হাসপাতালমুখী লোকাল ট্রেন: রানাঘাট রেল হাসপাতালগামী লোকাল ট্রেন চালুর দাবি তুলেছেন জগন্নাথ সরকার। তাঁর মতে, এটি রোগী এবং সাধারণ মানুষের জন্য যাতায়াতকে আরও সহজ করে তুলবে, যা জরুরি স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রাপ্তিতে সহায়ক হবে।
৪. রানাঘাট–বনগাঁ ডবল রেলপথ: রানাঘাট–বনগাঁ ডবল রেলপথের নির্মাণ কাজ দ্রুত সম্পন্ন করে পরিষেবা চালুর জন্য রেলমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছেন সাংসদ। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দুই অঞ্চলের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত হবে এবং যাত্রীদের সময় সাশ্রয় হবে।
সাংসদ জগন্নাথ সরকারের এই পাঁচ দফা প্রস্তাব রানাঘাট লোকসভা এলাকার রেল পরিকাঠামো এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, রেল মন্ত্রক এই প্রস্তাবগুলির বিষয়ে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।