শহর কলকাতায় বড়সড় সাফল্য পেল লালবাজার। একদিকে যখন এক মাওবাদী নেতা পুলিশের কাছে অস্ত্র সমর্পণ করে মূলস্রোতে ফেরার ডাক দিলেন, ঠিক তখনই দীর্ঘদিনের তল্লাশির অবসান ঘটিয়ে গ্রেফতার হলেন ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ মাওবাদী নেত্রী শ্রদ্ধা বিশ্বাস ওরফে বেলা। উত্তর কাশীপুর এলাকা থেকে তাঁকে জালে তুলেছে পুলিশ। একযোগে এই জোড়া সাফল্যে রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে প্রশাসনিক মহলে।
তদন্তকারীদের নজরে দীর্ঘদিনের ‘টার্গেট’ পুলিশ সূত্রে খবর, শ্রদ্ধা বিশ্বাস ওরফে বেলা দীর্ঘকাল ধরে পুলিশের খাতায় ফেরার ছিলেন। মাওবাদী কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে ঝাড়খণ্ড ও পশ্চিমবঙ্গ—উভয় রাজ্যের পুলিশের কাছেই তিনি ছিলেন ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’। উত্তর কাশীপুর এলাকায় তাঁর উপস্থিতির খবর পেয়েই ওত পেতে ছিল পুলিশ। গোপন সূত্রে খবর মেলামাত্রই সেখানে অভিযান চালিয়ে তাঁকে পাকড়াও করা হয়।
মাও নেতার আত্মসমর্পণ ও মূলস্রোত বেলার গ্রেফতারির সমান্তরালে লালবাজারে ঘটে অন্য এক নাটকীয় ঘটনা। এক দুর্ধর্ষ মাওবাদী নেতা এদিন পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। জানা গেছে, সরকারের আত্মসমর্পণ নীতিতে উদ্বুদ্ধ হয়েই হিংসার পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চেয়েছেন তিনি। গোয়েন্দাদের মতে, এই আত্মসমর্পণের ফলে মাওবাদী নেটওয়ার্কের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে আসতে পারে।
কেন এই গ্রেফতারি গুরুত্বপূর্ণ? শ্রদ্ধা বিশ্বাস ওরফে বেলার গ্রেফতারি মাওবাদী আন্দোলনের সাংগঠনিক কাঠামোর ওপর বড় আঘাত বলে মনে করা হচ্ছে। বেলার সঙ্গে আর কারা যোগাযোগ রাখত এবং এই উত্তর কাশীপুর এলাকায় তাঁর লুকানোর পেছনে কোনো বড় উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা। ধৃত নেত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আন্তঃরাজ্য মাওবাদী গতিবিধির ওপর আলোকপাত করার চেষ্টা করছে পুলিশ।
আপাতত লালবাজারের এই জোড়া সাফল্যে শহরজুড়ে কড়া নিরাপত্তার চাদর বিছানো হয়েছে। ধৃত নেত্রীকে আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে পুলিশ।





