রেকর্ড গরমে ঠান্ডা পানীয়ের চাহিদা আকাশছোঁয়া, তবুও কেন হিমশিম খাচ্ছে এসি-ফ্রিজের ব্যবসা?

দেশজুড়ে চলা তীব্র দাবদাহে পানীয়ের বাজারে লেগেছে বড়সড় জোয়ার। আইসক্রিম, সফট ড্রিঙ্কস থেকে শুরু করে কোল্ড কফি—সবকিছুর চাহিদা রেকর্ড গড়ে বাড়লেও, এসি এবং রেফ্রিজারেটরের বিক্রি নিয়ে চিন্তিত শিল্প মহল। কনজ্যুমার সেন্টিমেন্ট বা ক্রেতাদের খরচ করার মানসিকতায় ভাটা পড়াই এর অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

পানীয়র বাজারে রেকর্ড চাহিদা: চাহিদার এই জোয়ারের কথা স্বীকার করে মাদার ডেয়ারির ম্যানেজিং ডিরেক্টর জয়তীর্থ চ্যারি জানান, “গত ১০ দিনে আইসক্রিমের বিক্রি দ্বিগুণের বেশি হয়েছে। ফ্রেশ ডেয়ারি পণ্যের বিক্রিও ৩০ শতাংশেরও বেশি।” কোকা-কোলা ও পেপসিকোর মতো সংস্থাও তাদের দৈনিক লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে পণ্য বাজারে সরবরাহ করছে।

বদল আসছে পছন্দের তালিকায়: এ বছরের তীব্র গরমে পানীয়র অভ্যাসেও পরিবর্তন আসছে। ব্রিটানিয়া ইন্ডাস্ট্রিজ়ের তথ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টার মধ্যে কোল্ড কফি এবং মিল্কশেকের মতো ডেয়ারি-ভিত্তিক পানীয় সফট ড্রিঙ্কসের সঙ্গে জোর টক্কর দিচ্ছে। স্বাস্থ্য সচেতন ক্রেতারা এখন কার্বনেটেড পানীয়র বদলে মিল্কশেককেই বিকল্প হিসেবে বেছে নিচ্ছেন।

এসি-ফ্রিজের বাজার কেন শ্লথ? পানীয়র মতো রমরমিয়ে বিক্রি নেই এসি এবং রেফ্রিজারেটরের ক্ষেত্রে। ব্লু স্টারের ম্যানেজিং ডিরেক্টর বি থিয়াগারাজন এবং গোদরেজ়ের কমল নন্দীর মতে:

  • জ্বালানির খরচ: পেট্রল ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ক্রেতাদের বাজেটকে প্রভাবিত করেছে, তাই অনেকেই বড় কেনাকাটার ক্ষেত্রে অপেক্ষা করছেন।

  • উৎপাদন খরচ: তামার দাম বৃদ্ধি, দুর্বল রুপি এবং নতুন এনার্জি নিয়মের ফলে এসির উৎপাদন খরচ বাড়লেও, সেই বোঝা পুরোপুরি ক্রেতাদের ওপর চাপানো সম্ভব হচ্ছে না।

  • মানসিকতা: ২০২৫ সালে ঠান্ডা কম পড়ায় বিক্রির হার এমনিতেই কম ছিল, সেই তুলনায় এই বছরের ১৫ শতাংশ বৃদ্ধিকে খুব একটা আশাব্যঞ্জক বলে মনে করছেন না ব্যবসায়ীরা।

সামগ্রিকভাবে, গরম বাড়লেও মানুষের খরচের প্রবণতা এখন অনেকটা রয়েসয়ে। তবে গরম যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে আগামী দিনে কুলিং অ্যাপ্লায়েন্সের বিক্রি বাড়বে বলেই আশা রাখছেন খুচরো ব্যবসায়ীরা।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy