গত এক বছর ধরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-কেন্দ্রিক বাণিজ্যে যে রমরমা পরিস্থিতি ছিল, তাতে এখন ভাটার টান লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এলারা সিকিউরিটিজের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা টানা ষষ্ঠ সপ্তাহের মতো উদীয়মান বাজারগুলো থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ তুলে নিচ্ছেন। গত ১৫ সপ্তাহে এই বহির্গমনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৪.৪ বিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে শুধু এই সপ্তাহেই বাজার থেকে ৮ বিলিয়ন ডলার তুলে নেওয়া হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে পড়েছে চীন-কেন্দ্রিক তহবিলগুলো, যেখান থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত প্রায় ৭৯ বিলিয়ন ডলার বেরিয়ে গেছে। গ্লোবাল এমার্জিং মার্কেট (জিইএম) তহবিলগুলোও টানা তৃতীয় সপ্তাহে ৭৩৮ মিলিয়ন ডলার ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। মূলত অ্যাক্টিভ লং-অনলি ফান্ডগুলো থেকেই বিক্রির চাপ বেশি আসছে, যা বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি নেওয়ার অনিচ্ছাকেই স্পষ্ট করছে।
২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে প্রযুক্তি-নির্ভর বাজার যেমন দক্ষিণ কোরিয়া ও তাইওয়ানে বিদেশি বিনিয়োগের যে জোয়ার এসেছিল, তা এখন থমকে গেছে। গত কয়েক সপ্তাহে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে রেকর্ড ১.৩ বিলিয়ন এবং ব্রাজিল থেকে ২৩০ মিলিয়ন ডলার বহির্গমন হয়েছে। তবে ভারতের জন্য আশার খবর হলো, এখানে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিক্রির গতি ক্রমশ কমছে। এপ্রিলে ভারত থেকে যেখানে ১.৫ বিলিয়ন ডলার বেরিয়ে গিয়েছিল, সেখানে মে মাসে তা ৭০২ মিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। গত দুই সপ্তাহে ভারতের বাজার স্থিতিশীলতার লক্ষণ দেখাচ্ছে, যা বর্তমান টালমাটাল পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে।





