মোবাইলে কয়েক সেকেন্ডের একটি ‘রিল’ বানিয়ে জনপ্রিয় হওয়ার নেশা যে কতটা মারাত্মক হতে পারে, তার প্রমাণ মিলল উত্তরপ্রদেশের সিদ্ধার্থনগরে। জলের ট্যাঙ্কের ওপর রিল বানাতে গিয়ে প্রাণ হারাল এক কিশোর, গুরুতর আহত আরও দুই। তবে সবথেকে রোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটল বাকি দুই কিশোরের সঙ্গে, যারা ভাঙা সিঁড়ির কারণে ট্যাঙ্কের মাথায় আটকে ছিল টানা ১৬ ঘণ্টা। শেষ পর্যন্ত ভারতীয় বায়ুসেনার হেলিকপ্টার এসে তাদের উদ্ধার করে।
রিল বানাতে গিয়েই বিপর্যয়: ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের সিদ্ধার্থনগর জেলার কাংশীরাম আবাসন কলোনিতে। শনিবার বিকেলে পবন, কল্লু, সিদ্ধার্থ, শনি এবং গোলু নামে পাঁচ কিশোর একটি বিশাল উঁচু জলের ট্যাঙ্কের মাথায় চড়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল অ্যাডভেঞ্চারাস কোনো ভিডিও বা রিল শ্যুট করা। কিন্তু মুহূর্তের অসাবধানতায় ঘটে যায় বিপর্যয়। আচমকাই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে ট্যাঙ্কের জরাজীর্ণ সিঁড়ির একটি বড় অংশ।
একজনের মৃত্যু, হাসপাতালে জীবনযুদ্ধ: সিঁড়ি ভেঙে পড়ার সময় সিদ্ধার্থ, শনি এবং গোলু ওপর থেকে নিচে পড়ে যায়। স্থানীয়রা ছুটে এসে তাদের উদ্ধার করে মাধব প্রসাদ ত্রিপাঠি মেডিকেল কলেজে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা সিদ্ধার্থকে মৃত ঘোষণা করেন। বাকি দুজন বর্তমানে চিকিৎসাধীন থাকলেও তাদের অবস্থা আপাতত স্থিতিশীল বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
১৬ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষা: আসল সমস্যা তৈরি হয় পবন এবং কল্লুকে নিয়ে। সিঁড়ি না থাকায় তারা ট্যাঙ্কের মাথায় আটকা পড়ে যায়। খবর পেয়ে এনডিআরএফ (NDRF) এবং স্থানীয় পুলিশ পৌঁছলেও উদ্ধারকাজ অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। ট্যাঙ্কের চারপাশের রাস্তা এতই সরু যে বড় কোনো ক্রেন বা উদ্ধারকারী যান সেখানে পৌঁছাতে পারছিল না। রাতভর বিকল্প রাস্তা তৈরির চেষ্টা চলে, কিন্তু ভোররাতে আচমকা বৃষ্টি শুরু হওয়ায় সব চেষ্টা বৃথা যায়।
বায়ুসেনার হাড়হিম করা অপারেশন: অবস্থা বেগতিক দেখে জেলা প্রশাসন রাজ্য সরকারের মাধ্যমে ভারতীয় বায়ুসেনার সাহায্য চায়। গোরখপুরের সেন্ট্রাল এয়ার কমান্ড থেকে উড়ে আসে একটি বিশেষ Mi-17 V5 হেলিকপ্টার। রবিবার ভোর ৫টা ২০ মিনিটে যখন হেলিকপ্টারটি কুয়াশাভেজা আকাশে ট্যাঙ্কের ওপর চক্কর কাটতে শুরু করে, তখন এলাকায় টানটান উত্তেজনা। মাত্র ১৫ মিনিটের ঝোড়ো অপারেশনে দক্ষ বায়ুসেনা কর্মীরা ট্যাঙ্কের মাথা থেকে দুই কিশোরকে নিরাপদে উদ্ধার করে হেলিকপ্টারে তুলে নেন।
উদ্ধারের পর তাদের প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য গোরখপুরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বর্তমানে তারা সুরক্ষিত থাকলেও, চোখের সামনে সঙ্গীর মৃত্যু এবং ১৬ ঘণ্টার সেই বিভীষিকা তাদের মনে গভীর ক্ষতর সৃষ্টি করেছে। জেলা প্রশাসন এই ঘটনার পর পরিত্যক্ত বা বিপজ্জনক উঁচু জায়গাগুলোতে সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার নিয়ে কড়া পদক্ষেপ করার নির্দেশ দিয়েছে।





