অনেকেই অভ্যাসবশত বাইকের ট্যাঙ্ক ভর্তি রাখেন না। ড্যাশবোর্ডে জ্বালানি কম থাকার সঙ্কেত বা ‘রিজার্ভ’ মোড আসা পর্যন্ত বাইক চালানো অনেকেরই প্রতিদিনের ঘটনা। কিন্তু এই ছোট অভ্যাসটি যে আপনার প্রিয় বাইকের ইঞ্জিনের কতটা ক্ষতি করছে, তা হয়তো আপনি কল্পনাও করতে পারছেন না। চলুন জেনে নিই কেন সবসময় রিজার্ভে বাইক চালানো বিপদজনক:
ইঞ্জিনের কর্মক্ষমতা হ্রাস: বাইক যখন রিজার্ভ ফুয়েলে চলে, তখন ইঞ্জিন পর্যাপ্ত জ্বালানি পায় না। ফলে পিস্টনকে অনেক বেশি পরিশ্রম করতে হয়। এতে বাইকের পিকআপ কমে যায়, অ্যাক্সিলারেশন দুর্বল হয়ে পড়ে এবং ইঞ্জিনের মসৃণতা নষ্ট হয়। দীর্ঘমেয়াদে এটি ইঞ্জিনের আয়ু কমিয়ে দেয়।
ফুয়েল সিস্টেমে ময়লা জমার ঝুঁকি: জ্বালানি ট্যাঙ্কের একদম নিচে সাধারণত ধুলোবালি ও ময়লা জমে থাকে। তেল খুব কম থাকলে ফুয়েল পাম্প সেই ময়লা টেনে নেয়। এর ফলে ফুয়েল লাইন আটকে যেতে পারে এবং ইঞ্জিনে ময়লা প্রবেশ করে মাইলেজ কমিয়ে দেয়।
ফুয়েল সেন্সর ও পাম্পের ক্ষতি: জ্বালানি কম থাকলে ট্যাঙ্কের সেন্সর দ্রুত বিকল হয়ে যায়। আধুনিক বাইকগুলোতে ফুয়েল পাম্প ঠান্ডা রাখার জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ পেট্রোলের প্রয়োজন হয়। তেল কম থাকলে পাম্প গরম হয়ে পুড়ে যেতে পারে, যা মেরামতে বিশাল খরচ হবে।
দুর্ঘটনার ঝুঁকি: রিজার্ভ মোডে থাকলে ঠিক কখন তেল ফুরিয়ে যাবে তা বোঝা কঠিন। ব্যস্ত ট্র্যাফিকে হঠাৎ বাইক বন্ধ হয়ে গেলে তা বড় কোনো দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
পরামর্শ: বিশেষজ্ঞ ও মেকানিকদের মতে, বাইকের সুস্থতার জন্য ট্যাঙ্কে সবসময় অন্তত ২ থেকে ৩ লিটার পেট্রোল থাকা উচিত। এটি ইঞ্জিনের সঠিক কার্যকারিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আপনাকে হঠাৎ বিপদে পড়া থেকেও রক্ষা করবে।





