এলাহাবাদ হাইকোর্টের লখনউ বেঞ্চে রাহুল গান্ধীর দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত মামলায় তৈরি হলো এক নজিরবিহীন পরিস্থিতি। বিচারপতি সুভাষ বিদ্যার্থী এই হাই-প্রোফাইল মামলার শুনানি থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। গত সপ্তাহেই তিনি রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করার এক চাঞ্চল্যকর নির্দেশ দিয়েছিলেন, যা পরে নিজেই স্থগিত করেন। তবে এখন মামলাটি থেকে তাঁর সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত আইনি মহলে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।
কেন এই সরে দাঁড়ানো?
বিচারপতি বিদ্যার্থীর এই সিদ্ধান্তের মূলে রয়েছে আবেদনকারী এস. বিঘ্নেশ শিশিরের সোশ্যাল মিডিয়া কার্যকলাপ। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে যে, আবেদনকারী আদালতের সততা এবং নিরপেক্ষতা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে প্রশ্ন তুলেছেন। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, আদেশের কপি ওয়েবসাইটে আপলোড করতে দেরি হওয়ার পেছনে বৈধ কারণ থাকলেও, আবেদনকারী সেটিকে জনসমক্ষে বিতর্কিত করার চেষ্টা করেছেন। এমনকি রাহুল গান্ধীকে ব্যক্তিগতভাবে আদালতে হাজির করানো উচিত কি না, তা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘পাবলিক ওপিনিয়ন’ বা জনমত চেয়েছেন শিশির, যা বিচার ব্যবস্থার ওপর অনাস্থার শামিল।
বিচারপতি বিদ্যার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন যে, আবেদনকারী যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে সোশ্যাল মিডিয়ায় আদালতের সমালোচনা করছিলেন। তিনি মনে করেন, যখন কোনো পক্ষ বিচার বিভাগের ওপর আস্থা হারায় বা জনমত দিয়ে আদালতের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে চায়, তখন সেই বিচারপতির পক্ষে মামলার শুনানি চালিয়ে যাওয়া সমীচীন নয়।
মামলার প্রেক্ষাপট ও অভিযোগ:
কর্ণাটকের বাসিন্দা এস. বিঘ্নেশ শিশির রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ এনেছেন। তাঁর দাবি, রাহুল গান্ধী যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংস্থা ‘ব্যাকঅপস লিমিটেড’-এর পরিচালক থাকাকালীন সরকারি নথিতে নিজেকে ব্রিটিশ নাগরিক হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন। শিশিরের মতে, এটি ভারতীয় দণ্ডবিধি, সরকারি গোপনীয়তা আইন এবং পাসপোর্ট আইনের চরম লঙ্ঘন। যদি রাহুল গান্ধী বিদেশি নাগরিকত্ব গ্রহণ করে থাকেন, তবে তাঁর ভারতীয় নাগরিকত্ব বাতিল হওয়া উচিত এবং তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
আদালতের আগের অবস্থান:
এর আগে ১৭ই এপ্রিল আদালত জানিয়েছিল যে, আপাতদৃষ্টিতে একটি মামলা তৈরি হয়েছে এবং রাজ্য সরকার চাইলে বিষয়টি কেন্দ্রের কাছে পাঠাতে পারে। বিচারপতি বিদ্যার্থী প্রথমে এফআইআর দায়ের এবং তদন্তভার সিবিআই-কে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু পরে তিনি আইনি জটিলতা উপলব্ধি করে সেই নির্দেশে স্থগিতাদেশ দেন এবং জানান যে, অভিযুক্তের বক্তব্য না শুনে এই ধরনের নির্দেশ দেওয়া উচিত কি না, তা পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।
বর্তমানে মামলাটি অন্য একটি বেঞ্চে স্থানান্তরিত হবে। এখন দেখার বিষয়, নতুন বেঞ্চ রাহুল গান্ধীর ব্রিটিশ পাসপোর্ট বিতর্ক নিয়ে কী অবস্থান নেয়।





