সপ্তাহের শেষ দিনটি (শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬) মোটেও সুখকর হলো না ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের জন্য। দিনের শুরু থেকেই নেতিবাচক প্রবণতা বজায় রেখে অবশেষে বড় পতনের মুখ দেখল দালাল স্ট্রিট। এদিন নিফটি-৫০ (NIFTY 50) প্রায় ২৭৫ পয়েন্ট বা ১.১৪% কমে ২৩,৮৯৭-এর স্তরে নেমে এসেছে। অন্যদিকে, সেনসেক্সও (Sensex) প্রায় ১ শতাংশের বেশি পতন দেখেছে।
হঠাৎ কেন এই ধস? বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, মূলত ৫টি কারণে আজকের বাজারে এই হাহাকার:
১. আইটি সেক্টরে প্রবল ধস (IT Sector Crash): আজকের পতনের প্রধান কারিগর ছিল তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্র। ইনফোসিস (Infosys) প্রত্যাশার চেয়ে দুর্বল বার্ষিক আয়ের পূর্বাভাস (FY27 Guidance) দেওয়ায় তাদের শেয়ার প্রায় ৭% পড়ে যায়। এর রেশ ধরে টিসিএস, এইচসিএল টেক এবং টেক মহিন্দ্রার মতো শেয়ারগুলোতেও ব্যাপক বিক্রি শুরু হয়।
২. পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা ও তেলের দাম: ইরান ও আমেরিকার মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তা বিশ্ব বাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে। এর ফলে অপরিশোধিত তেলের (Crude Oil) দাম ঊর্ধ্বমুখী, যা ভারতের মতো আমদানিনির্ভর দেশের অর্থনীতির জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়।
৩. টাকার রেকর্ড পতন: আজ ডলারের তুলনায় ভারতীয় টাকার দাম কমে ৯৪.২৫ টাকায় পৌঁছেছে। টাকার এই দুর্বলতা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের (FII) বাজার থেকে টাকা তুলে নিতে বাধ্য করছে, যার প্রভাব সরাসরি পড়ছে শেয়ার সূচকে।
৪. বিদেশি বিনিয়োগকারীদের লাগাতার বিক্রি: বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা (FII) গত কয়েক সেশন ধরেই ভারতীয় বাজার থেকে ক্রমাগত শেয়ার বিক্রি করে মূলধন সরিয়ে নিচ্ছেন। আজ সেই বিক্রির চাপ আরও বৃদ্ধি পাওয়ায় বাজার ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পায়নি।
৫. মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা ও সুদের হার: বিশ্ব বাজারে অস্থিরতার কারণে ফের মুদ্রাস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর ফলে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক সুদের হার কমানোর পথে হাঁটবে কি না, তা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মনে গভীর সংশয় তৈরি হয়েছে।
বাজারের পরবর্তী গতিপথ: বিশেষজ্ঞদের মতে, ২৩,৮০০ থেকে ২৩,৯০০ স্তরটি নিফটির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি সোমবার বাজার এর নিচে খোলে, তবে আগামী সপ্তাহে আরও বড় সংশোধনের (Correction) আশঙ্কা থাকছে। তবে কোল ইন্ডিয়ার মতো কিছু রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা এবং এফএমসিজি সেক্টর আজ কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেছিল।





