যুদ্ধের সমীকরণ বদলাতে চলেছে! রাফালের বিশাল বহর নিয়ে বড় পদক্ষেপ মোদী সরকারের

ভারতীয় বিমানবাহিনীর শক্তি বৃদ্ধিতে এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের পথে হাঁটছে ভারত। জানা গেছে, আকাশসীমার নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবং যুদ্ধবিমানের স্কোয়াড্রনগুলির ঘাটতি মেটাতে ভারত ১১৪টি রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করেছে। ভারতীয় বিমানবাহিনীর পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১১৪টি জেটের জন্য ‘লেটার অফ রিকোয়েস্ট’ বা অনুরোধপত্র পাঠানোর প্রস্তুতি প্রায় শেষ। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এই গুরুত্বপূর্ণ নথি পাঠানো হবে ফ্রান্সের কাছে।

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তি ভারতের সামরিক শক্তিতে এক বড় মাইলফলক হতে চলেছে। ১১৪টি যুদ্ধবিমানের মধ্যে প্রায় ৯০টি বিমান ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ প্রকল্পের আওতায় ভারতেই তৈরি হবে। ফরাসি অ্যারোস্পেস সংস্থা ‘দাসো অ্যাভিয়েশন’ এবং একটি ভারতীয় সংস্থার যৌথ অংশীদারিত্বে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সম্পন্ন হবে। বাকি বিমানগুলো সরাসরি ফ্রান্স থেকে ‘ফ্লাই-অ্যাওয়ে’ অবস্থায় ভারতে আসবে।

তিন মাস আগেই ‘প্রতিরক্ষা অধিগ্রহণ পরিষদ’ এই রাফাল সংগ্রহের প্রস্তাবটিকে সবুজ সংকেত দিয়েছিল। বর্তমানে এই প্রক্রিয়াটি সরকার-থেকে-সরকার পর্যায়ে এক নতুন মোড় নিয়েছে। মূল্য নির্ধারণ, সরবরাহ এবং লজিস্টিক সহায়তার বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার পর ভারত ‘রিকোয়েস্ট ফর প্রপোজাল’ জারি করবে। এরপর চূড়ান্ত চুক্তির আগে ‘নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটি’র অনুমোদন প্রয়োজন। শোনা যাচ্ছে, আগামী জুন মাসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ফ্রান্স সফরের সময়েই এই চুক্তি নিয়ে বড় কোনো ঘোষণা আসতে পারে।

নতুন রাফাল চুক্তির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো দেশীয় প্রযুক্তির সংযোজন। ভারত সরকার এই যুদ্ধবিমানের ‘ইন্টারফেস কন্ট্রোল ডকুমেন্ট’ ব্যবহারের সুযোগ পাওয়ার জন্য ফ্রান্সের সঙ্গে আলোচনা করছে। এর ফলে রাফাল যুদ্ধবিমানে ভারতীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র ও বিভিন্ন দেশীয় সেন্সর যুক্ত করা সম্ভব হবে। যদিও ‘সোর্স কোড’-এর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার সম্ভাবনা কম, তবুও এই চুক্তিতে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত স্থানীয় উপাদানের ব্যবহার ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

বর্তমানে ভারতীয় বিমানবাহিনীর হাতে ৩৬টি রাফাল যুদ্ধবিমান রয়েছে। অনুমোদিত ৪২টি স্কোয়াড্রনের বিপরীতে বর্তমানে মাত্র ২৯টি স্কোয়াড্রন সক্রিয় থাকায় বিমানবাহিনী এক সংকটের মুখোমুখি। নিজস্ব প্রযুক্তিতে যুদ্ধবিমান তৈরির প্রকল্প—যেমন LCA Mk1A, Mk2 এবং ‘অ্যাডভান্সড মিডিয়াম কমব্যাট এয়ারক্রাফট’—এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে থাকায়, রাফাল বহর সম্প্রসারণই স্বল্পমেয়াদে শক্তির ঘাটতি পূরণের একমাত্র কার্যকর পথ।

সামরিক কর্মকর্তাদের মতে, রাফাল যুদ্ধের ময়দানে বহুমুখী কার্যকারিতার জন্য অপ্রতিদ্বন্দ্বী। বিশেষ করে পূর্ববর্তী ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর সময় রাফাল বিমানগুলি SCALP-EG ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও HAMMER বোমা ব্যবহার করে শত্রুপক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে যেভাবে অকেজো করেছিল, তা বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়েছে। এই যুদ্ধবিমানের পরিকাঠামো ইতিমধ্যেই ভারতে থাকায়, নতুন করে প্রশিক্ষণের খরচ ও সময় অনেকটাই সাশ্রয় হবে। সব মিলিয়ে, ১১৪টি রাফালের অন্তর্ভুক্তি ভারতের আকাশসীমাকে আরও অভেদ্য ও শক্তিশালী করে তুলবে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy