প্রতি সোমবারের মতোই আজও সল্টলেকের বিজেপি পার্টি অফিসে বসেছিল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ‘জনতার দরবার’। কর্মসূচিটি সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও, সাধারণ মানুষের প্রবল আগ্রহের কারণে রবিবার মাঝরাত থেকেই কার্যালয়ের সামনে লম্বা লাইন পড়ে যায়। চাকরিপ্রার্থী, চাকরিহারা এবং বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত পাঁচশোরও বেশি মানুষ এদিন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার জন্য ভিড় জমিয়েছিলেন।
আজকের দরবারের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে ওঠে ৮১ বছর বয়সী এক বৃদ্ধের আর্তি। ভবানীপুরের বাসিন্দা ড. প্রবীর বিশ্বাস তাঁর পৈতৃক ভিটে ফিরে পাওয়ার আশায় মুখ্যমন্ত্রীর মুখোমুখি হন। বৃদ্ধের অভিযোগ, ‘সোনা পাপ্পু’ ও ‘জয় এস কামদার’ নামের দুই ব্যক্তি প্রোমোটারির নামে তাঁর সাথে প্রতারণা করেছে। পৈতৃক জমিতে ফ্ল্যাট পাইয়ে দেওয়ার মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে জোরপূর্বক জমি দখল করা হয়েছে বলে তাঁর দাবি। বৃদ্ধের অভিযোগ, বারবার আর্জি জানালেও অভিযুক্তরা তাঁর কথায় কোনো কর্ণপাত করেনি। শেষ বয়সে ভাড়া বাড়িতে ঠাঁই নেওয়া এই বৃদ্ধের করুণ কাহিনী শুনে মুখ্যমন্ত্রী নিজেও অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টির সুরাহা করার আশ্বাস দিয়েছেন।
সকাল ৯টা নাগাদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পার্টি অফিসে পৌঁছলে পরিস্থিতি আরও গতিশীল হয়। এদিন জনতা দরবারে মূলত চাকরিপ্রার্থীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রায় ১৫ থেকে ২০টি চাকরিপ্রার্থী সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বঞ্চিত শিক্ষক সংগঠনের সদস্যরা নিজেদের দাবিদাওয়ার তালিকা মুখ্যমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে চাকরি হারানো ব্যক্তিদের একাংশও এদিন নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে সহায়তা চান।
সুষ্ঠুভাবে কাজ পরিচালনার জন্য এদিন কঠোর ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করা হয়েছিল। প্রথমে আসা ব্যক্তিদের রেজিস্ট্রেশন করানো হয় এবং তাদের সমস্যার ধরণ অনুযায়ী টোকেন দেওয়া হয়। সিরিয়াল নম্বর অনুযায়ী সিকিউরিটি চেকিংয়ের পর একে একে সাধারণ মানুষ এবং প্রতিনিধিদের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়। মুখ্যমন্ত্রী ধৈর্য ধরে প্রত্যেকের অভিযোগ শোনেন এবং আইনি ও প্রশাসনিক দিক থেকে কীভাবে সমস্যার সমাধান করা সম্ভব, সেই বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেন।
রাজ্যে পালাবদলের পর জনসাধারণের অভাব-অভিযোগ সরাসরি শোনার এই প্রক্রিয়াটি বর্তমানে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। সোমবার সকাল ৯টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত চলা এই কর্মসূচিটি এখন সাধারণ মানুষের কাছে শেষ ভরসার জায়গা হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভ এবং জালিয়াতির বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রীর এই সরাসরি পদক্ষেপ রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।





