“যাকো রাখে সাইয়াঁ…” ওড়িশায় জলদানবের সঙ্গে লড়ে মৃত্যুঞ্জয়ী ছবি ভুক্তা, শিউরে উঠবে সারা দেশ

ওড়িশার কেন্দ্রাপাড়া জেলায় ঘটে গেল এক অলৌকিক ও রোমহর্ষক ঘটনা। প্রচলিত প্রবাদ ‘যাকো রাখে সাইয়াঁ মার সাকে না কোই’—অর্থাৎ ঈশ্বর যার সহায় তাকে মারার সাধ্য কারো নেই—ঠিক এই কথাটিকেই বাস্তবে প্রমাণ করে দেখালেন ৫৪ বছর বয়সী এক অকুতোভয় মহিলা। খোদ যমদূত তথা এক বিশালকার কুমিরের মুখ থেকে আক্ষরিক অর্থেই ছিনিয়ে আনলেন নিজের জীবন।

ঘটনাটি ঘটেছে ভিতরকানিকা জাতীয় উদ্যান সংলগ্ন মহাকল্পদা বনাঞ্চলের পেটাচেলা গ্রামে। আক্রান্ত মহিলার নাম ছবি ভুক্তা। প্রত্যক্ষদর্শী ও বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার বিকেলে গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে চলা রামচণ্ডী নদীতে বাসন ধুতে গিয়েছিলেন ছবি দেবী। নিত্যদিনের অভ্যেস মতো নদীর পাড়ে বসে কাজ করার সময় তিনি ভাবতেও পারেননি যে জলের তলায় ওত পেতে বসে আছে সাক্ষাৎ মৃত্যু। বাসন ধোয়ার জন্য তিনি সামান্য জলে নামতেই হঠাৎ একটি বিশালাকার নোনা জলের কুমির তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।

চামচ দিয়েই লড়াই:
কুমিরটি হঠাতই ছবি দেবীর হাত ও পা কামড়ে ধরে গভীর জলের দিকে টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। আকস্মিক এই আক্রমণে তিনি হকচকিয়ে গেলেও হিতাহিত জ্ঞান হারাননি। কুমিরের মরণ কামড়ে তাঁর হাত, পা ও পেটে গুরুতর ক্ষত তৈরি হলেও যন্ত্রণায় কুঁকড়ে না গিয়ে তিনি পালটা লড়াই করার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর হাতে সেই সময় ছিল বাসন মাজার একটি স্টিলের বড় চামচ। উপস্থিত বুদ্ধি খাটিয়ে তিনি সেই চামচ দিয়েই কুমিরের চোখে সজোরে আঘাত করতে শুরু করেন। যন্ত্রণায় এবং ক্রমাগত চোখের ওপর আঘাতের চোটে কুমিরটি বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে এবং কামড় আলগা করে দেয়। ঠিক সেই মুহূর্তেই ছবি দেবীর আর্তনাদ শুনে গ্রামবাসীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে নদীর পাড়ে ছুটে এলে কুমিরটি পিছু হটে গভীর জলে গা ঢাকা দেয়।

বর্তমান পরিস্থিতি ও চিকিৎসকের বয়ান:
রক্তাক্ত অবস্থায় ছবি ভুক্তাকে উদ্ধার করে দ্রুত মহাকল্পদা কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, কুমিরের কামড়ে মহিলার শরীরে একাধিক গভীর ক্ষত হয়েছে। তবে সময়ের সঠিক চিকিৎসায় তাঁর অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল। মহিলার এই অদম্য সাহস দেখে রীতিমতো স্তম্ভিত চিকিৎসকমহল ও পুলিশ প্রশাসন।

বন দপ্তরের সতর্কতা:
ভিতরকানিকা ও সংলগ্ন এলাকায় কুমিরের সংখ্যা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় বন দপ্তর কড়া সতর্কতা জারি করেছে। সহকারী বন সংরক্ষক মানস কুমার দাস জানান, “মে থেকে জুলাই মাস কুমিরদের প্রজনন ঋতু। এই সময়ে তারা ডিম পাড়ার জন্য ডাঙার কাছাকাছি চলে আসে এবং চরম আক্রমণাত্মক মেজাজে থাকে।” পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রায় ১২০টি নদী ঘাটে লোহার খাঁচা বা ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। তবুও দুই মাস আগেই এই এলাকায় এক মৎস্যজীবী কুমিরের আক্রমণে প্রাণ হারিয়েছেন। বন বিভাগের পক্ষ থেকে গ্রামবাসীদের বারবার সতর্ক করা হচ্ছে যেন তারা সুরক্ষিত ঘাট ছাড়া নদীতে না নামেন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy