‘মোদী যুদ্ধাপরাধী, নেতানিয়াহু-র সমতুল্য!’ নিউইয়র্কের প্রথম মুসলিম মেয়রের বিস্ফোরক মন্তব্যে তোলপাড় ভারত

আমেরিকার নিউইয়র্ক সিটির মেয়র পদে বামপন্থী নেতা জোহরান মামদানির জয় ভারত ও আমেরিকার রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তিনি নিউইয়র্কের প্রথম বাম এবং মুসলিম ডেমোক্র্যাট নেতা, যিনি এই গুরুত্বপূর্ণ পদে বসতে চলেছেন। তাঁর জয় যেমন আমেরিকায় প্রগতিশীল রাজনীতির উত্থানকে চিহ্নিত করছে, তেমনই ভারতে তাঁর কট্টর মোদী-বিরোধী অবস্থান এবং ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামো নিয়ে করা মন্তব্যের কারণে তীব্র সমালোচনা চলছে।

মোদীকে ‘যুদ্ধাপরাধী’ আখ্যা:

মেয়র নির্বাচনের আগে থেকেই প্রগতিশীল এবং বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন মামদানি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে সরাসরি ‘যুদ্ধাপরাধী’ আখ্যা দেন এবং তাঁর সঙ্গে মঞ্চ ভাগ করে নিতে অস্বীকার করেন।

মামদানি বলেন,

“প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে কোনওদিনই এক মঞ্চে বসতে পারব না। মোদীকে আমরা একই চোখে দেখি যেমন বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে মনে করি। এঁরা হলেন যুদ্ধাপরাধী।”

তিনি এর আগেও মন্তব্য করেছিলেন যে, মোদীর কারণে তিনি নিজেকে ‘গুজরাটি মুসলিম’ বলতে দ্বিধাগ্রস্ত হন, কারণ মোদী এত মানুষকে খুন করেছেন যে, মানুষের মনে বিশ্বাসই উঠে গিয়েছিল।

ভারতে কড়া সমালোচনা:

মামদানির এই ধরনের মন্তব্যের জেরে ভারতে দলমত নির্বিশেষে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বিজেপির প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের নেতা অভিষেক মনু সিংভিও তাঁর কঠোর নিন্দা করেন। সিংভি এক এক্সবার্তায় লেখেন, “জোহরান মামদানি যখন মুখ খোলেন, পাকিস্তানের জনসংযোগ বিভাগ সেদিন বিশ্রামে থাকে। তাঁর মতো লোকের সঙ্গে গাঢ় বন্ধুত্ব রাখা শত্রুদের ভারত চায় না।”

‘মিথ্যা ও প্ররোচনামূলক দাবি’:

মামদানি দাবি করেন যে, মোদী গুজরাটি মুসলিমদের মুছে দিয়েছেন। এই ‘বাস্তবিক ভিত্তিহীন’ দাবি নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক ওমর গাজির মতে, মামদানির এই দাবি ডাহা মিথ্যা এবং গুজরাতের ৬০ লক্ষ মুসলিমের প্রতি অবমাননাকর। গাজি তাঁকে ‘ইসলামবাদ ও মার্কসবাদের বিষাক্ত মিশ্রণ’ বলেও ব্যাখ্যা করেছেন।

গাজির অভিযোগ, মামদানি ‘গ্লোবালাইজ দ্য ইন্তিফাদা’ (ইহুদি বিরোধী স্লোগান) স্লোগানের বিরোধিতা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, মামদানি একবার নিউইয়র্কের মঞ্চে উমর খালিদের জেলে লেখা অংশ পড়ে শুনিয়েছিলেন, যিনি হিজবুল মুজাহিদিন নেতা বুরহান ওয়ানিকে ‘স্বপ্নের নায়ক’ ঘোষণা করেছিলেন। মামদানির জয় আমেরিকার রাজনীতিতে কট্টর বামেদের মুঠি শক্ত হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy