মোদীর আহ্বানে দিল্লির বড় পদক্ষেপ, সপ্তাহে ২ দিন WFH, বদলে গেল অফিসের সময়ও!

বিশ্বজুড়ে জ্বালানির ক্রমবর্ধমান সংকট এবং পরিবেশ দূষণ মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশবাসীকে পেট্রোল ও ডিজেল সাশ্রয়ের আহ্বান জানিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর সেই বার্তায় সাড়া দিয়ে এবার বড়সড় পদক্ষেপের ঘোষণা করল দিল্লি সরকার। মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা জানিয়েছেন, জ্বালানি সাশ্রয় এবং ‘মেরা ভারত, মেরা যোগদান’ অভিযানকে সফল করতে দিল্লিতে সপ্তাহে দুই দিন ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ (WFH) ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে।

সরকারি ও বেসরকারি অফিসে নতুন নিয়ম মুখ্যমন্ত্রী জানান, সরকারি অফিসগুলোতে সপ্তাহে দুই দিন কর্মীরা বাড়ি থেকে কাজ করবেন। তবে জরুরি ও অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবা প্রদানকারী দপ্তরগুলো এই নিয়মের আওতার বাইরে থাকবে। শুধু সরকারি নয়, বেসরকারি সংস্থাগুলোকেও সপ্তাহে অন্তত দুই দিন কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার জন্য বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে।

বদলে যাচ্ছে অফিসের সময়সূচী যানজট নিয়ন্ত্রণ ও জ্বালানি বাঁচাতে অফিসের সময়সূচীতেও বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন থেকে দিল্লি সরকারের অফিসগুলো সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭:৩০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। অন্যদিকে, পৌরসভার অফিসগুলোর সময় নির্ধারণ করা হয়েছে সকাল ৮:৩০টা থেকে বিকেল ৫:৩০টা পর্যন্ত। এছাড়া আগামী ছয় মাস সরকারের পক্ষ থেকে নতুন কোনো যানবাহন কেনা হবে না বলেও জানানো হয়েছে।

মন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের জন্য কড়া নির্দেশ জ্বালানি সাশ্রয়ে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি মন্ত্রী ও আমলাদেরও কঠোর নিয়মের মধ্যে আনছে রেখা গুপ্তার সরকার। জানানো হয়েছে, কর্মকর্তাদের জন্য পেট্রোলের বরাদ্দ ২০ শতাংশ কমানো হয়েছে। প্রতি সোমবার পালিত হবে ‘মন্ডে মেট্রো ডে’, যেখানে মন্ত্রী ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা ব্যক্তিগত গাড়ি ছেড়ে মেট্রোতে যাতায়াত করবেন। এছাড়া আগামী এক বছর মন্ত্রী বা কর্মকর্তাদের সমস্ত বিদেশ ভ্রমণ বাতিল করা হয়েছে।

গণপরিবহন ব্যবহারে বিশেষ ইনসেনটিভ সাধারণ মানুষকে গণপরিবহন ব্যবহারে উৎসাহিত করতে অভিনব পুরস্কারের ঘোষণা করেছে সরকার। প্রথম থেকে অষ্টম গ্রেডের কর্মচারীরা যদি তাদের যাতায়াত ভাতার ২৫ শতাংশ বাসের টিকিট বা মেট্রো কার্ডে ব্যয় করেন, তবে সরকার তাদের অতিরিক্ত ১০ শতাংশ সরকারি ভাতা প্রদান করবে। এছাড়া ২৯টি আবাসিক কলোনি থেকে মেট্রো স্টেশন পর্যন্ত যাতায়াতের জন্য অতিরিক্ত ৫৮টি ফিডার বাস নামানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিদ্যুৎ সাশ্রয়েও নজর জ্বালানির পাশাপাশি বিদ্যুৎ অপচয় রুখতেও ব্যবস্থা নিচ্ছে দিল্লি। এখন থেকে সমস্ত সরকারি অফিসে এসি ২৪ থেকে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে চালাতে হবে। অফিস ছুটির পর বাতি নেভানো নিশ্চিত করতে বিশেষ সুইচ সিস্টেম বসানো হচ্ছে। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অনলাইন ক্লাস এবং আদালতগুলোতে অনলাইনের মাধ্যমে শুনানি করার জন্য আবেদন জানিয়েছে সরকার।

রাজধানীবাসীর মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে আগামী ৯০ দিন ধরে বিশেষ প্রচার অভিযান চালানো হবে। ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ পণ্যকে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি দিল্লিকে একটি আদর্শ পরিবেশবান্ধব শহর হিসেবে গড়ে তোলাই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy