ক্যালেন্ডারের পাতায় মে মাসের অর্ধেক দিন পার হয়ে গেলেও শহর কলকাতার আবহাওয়া দেখে তা বোঝার উপায় নেই। তীব্র দাবদাহের বদলে এখন বৃষ্টির আমেজে স্বস্তিতে দিন কাটছে আমজনতার। মঙ্গলবারও তিলোত্তমার পারদ ছিল স্বাভাবিকের নিচেই। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানাচ্ছে, এই আরামদায়ক পরিস্থিতি এখনই শেষ হচ্ছে না; আগামী কয়েক দিন রাজ্যজুড়ে বৃষ্টির ধারা বজায় থাকবে।
কলকাতার আজকের আবহাওয়া: আবহাওয়া দফতরের (IMD) পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৪ ঘণ্টায় কলকাতার আকাশ আংশিক মেঘলা থাকবে। শহরের কিছু কিছু এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আজ শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৪ ডিগ্রি এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে ঘোরাফেরা করবে। গতকাল শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৪.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের তুলনায় ১.২ ডিগ্রি কম। বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ সর্বোচ্চ ৮৯ শতাংশ থাকায় বৃষ্টির আগে কিছুটা অস্বস্তি থাকলেও বৃষ্টি নামলেই মিলবে স্বস্তি।
দক্ষিণবঙ্গের পূর্বাভাস: কলকাতার পাশাপাশি দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতেও বৃষ্টির দাপট বাড়বে।
সতর্কতা: পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম এবং মুর্শিদাবাদে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
ঝড়: এই জেলাগুলিতে বজ্রবিদ্যুতের পাশাপাশি ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। বাকি জেলাগুলিতেও এক বা দু’টি স্থানে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
উত্তরবঙ্গে অতি ভারী বৃষ্টির চোখরাঙানি: দক্ষিণবঙ্গের তুলনায় উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির তীব্রতা অনেক বেশি থাকবে।
রেড অ্যালার্ট: জলপাইগুড়ি জেলায় এক বা দু’টি স্থানে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির (৭ থেকে ২০ সেন্টিমিটার) পূর্বাভাস দিয়েছে হাওয়া অফিস।
ভারী বৃষ্টি: দার্জিলিং, কালিম্পং, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার এবং উত্তর দিনাজপুরেও ৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টি হতে পারে।
ঝড়: উত্তরের সব জেলাতেই বৃষ্টির সঙ্গে ঘণ্টায় ৪০-৫০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, বঙ্গোপসাগর থেকে আসা জলীয় বাষ্প এবং নিম্নচাপের সক্রিয়তার কারণেই মে মাসের গরমে এই অকাল বর্ষণ। আগামী কয়েক দিন ছাতা সঙ্গে রাখা এবং ঝড়ের সময় নিরাপদ স্থানে থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।





