বিশ্ব কূটনীতির মঞ্চে ফের একবার লাইমলাইটে ভারত-ইতালি রসায়ন। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর এক ঐতিহাসিক ঘোষণা করলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দুই দেশের সম্পর্ককে এবার এক ধাক্কায় আরও উঁচুতে নিয়ে গিয়ে ঘোষণা করা হলো ‘বিশেষ কৌশলগত অংশীদারিত্ব’ (Special Strategic Partnership)। প্রতিরক্ষায় জোর, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তিগত আদানপ্রদান— সব মিলিয়ে এই বৈঠককে ভারত-ইতালি সম্পর্কের এক নতুন অধ্যায় বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
🤝 মেলোনি-মোদি বৈঠকে ‘স্পেশাল’ কী?
প্রধানমন্ত্রী মোদি ও ইতালির প্রধানমন্ত্রী মেলোনির এই হাই-প্রোফাইল বৈঠকে মূলত কয়েকটি বিশেষ বিষয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে:
প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা: দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের বিষয়ে বড়সড় অগ্রগতি হয়েছে।
অর্থনৈতিক বুস্ট: ভারত ও ইতালির মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যকে আরও গতিশীল করতে তৈরি হয়েছে নতুন রোডম্যাপ।
প্রযুক্তি ও জ্বালানি: সেমিকন্ডাক্টর, গ্রিন এনার্জি এবং ডিজিটাল পরিকাঠামো উন্নয়নে যৌথভাবে কাজ করবে দিল্লি ও রোম।
🗣️ বৈঠকে কী বললেন প্রধানমন্ত্রী মোদি?
বৈঠক শেষে যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন,
“ভারত এবং ইতালির এই বিশেষ কৌশলগত অংশীদারিত্ব কেবল দুই দেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক লাভ নিশ্চিত করবে না, বরং সমগ্র ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেও বড় ভূমিকা নেবে।”
অন্যদিকে, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিও ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং দিল্লির সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলার বার্তা দেন।
🌐 কেন এই চুক্তি বিশ্ব রাজনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ?
বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী দেশ ইতালির সঙ্গে ভারতের এই ‘স্পেশাল স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ’ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এর ফলে একদিকে যেমন ইউরোপের বাজারে ভারতের প্রভাব আরও বাড়বে, অন্যদিকে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে বিদেশি নির্ভরতা কমিয়ে ‘আত্মনির্ভর’ হওয়ার পথে আরও একধাপ এগিয়ে যাবে ভারত।
মেলোনি ও মোদির এই যুগলবন্দি আগামী দিনে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে কী নতুন সমীকরণ তৈরি করে, এখন সেটাই দেখার।





