মাত্র পাঁচ মাসের দাম্পত্য জীবন। গত ১২ মে শ্বশুরবাড়ি থেকে উদ্ধার হয় ত্বিষা শর্মার ঝুলন্ত দেহ। এই ঘটনার পর থেকেই শুরু হয় একের পর এক বিতর্ক, অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের বন্যা। ত্বিষার পরিবারের দাবি, তাঁর স্বামী সমর্থ সিং এবং শ্বশুরবাড়ির লোকজন প্রভাব খাটিয়ে তদন্তকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন। দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর এই চাঞ্চল্যকর মামলা এখন পৌঁছে গিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত—সুপ্রিম কোর্টে। সোমবার এই মামলার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি ও বিচারপতি বিপুল এম পঞ্চোলির বেঞ্চ মামলার শুনানিতে উভয় পক্ষকেই কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন। প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, “মিডিয়ায় গিয়ে মন্তব্য করা অবিলম্বে বন্ধ করুন। তদন্তকারী সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতা করুন।” আদালতের পর্যবেক্ষণ, মিডিয়ার অতি-সক্রিয়তা তদন্তে কিছুটা গতি আনলেও, যেকোনো এক পক্ষের বক্তব্যকে ‘সাউন্ড বাইট’ বানিয়ে একতরফা কোনো গল্প তৈরি করা অনুচিত এবং এটি বিচার প্রক্রিয়ার পরিপন্থী।
এই শুনানিতে উঠে আসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। ত্বিষার শাশুড়ি গিরিবালা সিং একজন প্রাক্তন জেলা বিচারক। তাঁকে জেরা করার পদ্ধতি নিয়ে মিডিয়ায় যেভাবে নেতিবাচক প্রচার বা ‘ভুল ধারণা’ তৈরি করা হচ্ছে, তা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের মতে, যেভাবে বিষয়টি জনসমক্ষে তুলে ধরা হচ্ছে, তাতে জনমানসে এমন ধারণা তৈরি হচ্ছে যে বিচার বিভাগই মামলাকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। শীর্ষ আদালত সতর্ক করে বলেছে, এই ধারা চলতে থাকলে প্রয়োজনবোধে সিবিআই তদন্তের সুপারিশ করতেও দ্বিধা করবে না আদালত।
এদিকে, জবলপুর হাইকোর্টে গিরিবালা সিংয়ের আগাম জামিন বাতিলের আবেদন নিয়ে আজ একটি গুরুত্বপূর্ণ শুনানি রয়েছে। সূত্রের খবর, তিনি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আদালতে হাজির হবেন। গিরিবালা সিং তাঁর আইনি দলে বড় ধরনের রদবদল করেছেন। বর্ষীয়ান আইনজীবী মৃগেন্দ্র সিং আর ডিফেন্সের হয়ে লড়ছেন না; তাঁর জায়গায় যোগ দিচ্ছেন আরও কয়েকজন অভিজ্ঞ সিনিয়র আইনজীবী। আদালতে এমন কিছু নতুন নথিপত্র পেশ করার পরিকল্পনা রয়েছে ডিফেন্সের, যার মাধ্যমে তাঁরা প্রমাণ করার চেষ্টা করবেন যে জামিনের কোনো শর্ত লঙ্ঘিত হয়নি।
উল্লেখ্য, ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিলেন ত্বিষার স্বামী সমর্থ সিং। ঘটনার দশ দিন পর তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। মৃতার পরিবারের দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল, প্রভাবশালী শ্বশুরবাড়ির লোকজন তথ্য-প্রমাণ নষ্ট করার আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন। এখন সমর্থ সিংকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে তদন্তকারীরা আরও গভীরে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের রিপোর্টের পর থেকে মামলার গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। সব মিলিয়ে, ত্বিষা শর্মা মৃত্যু রহস্য এখন দেশের বিচার ব্যবস্থায় এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আইনি লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে।





