রাজ্যের সমস্ত জেলার মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তথ্য সংগ্রহ করতে উদ্যোগী হলো রাজ্য সরকার। সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দফতরের পক্ষ থেকে রাজ্যের সব জেলাশাসককে এই বিষয়ে একটি সুনির্দিষ্ট নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে। মূলত মাদ্রাসার বর্তমান পরিকাঠামো, শিক্ষাক্রম এবং পড়ুয়াদের সার্বিক অবস্থা খতিয়ে দেখাই এই সমীক্ষার মূল লক্ষ্য।
কী উঠে এল সমীক্ষার নির্দেশে?
প্রশাসনিক সূত্রে খবর, রাজ্যের অনুমোদিত, অননুমোদিত, সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত কিংবা বেসরকারি—সব ধরনের মাদ্রাসাই এই সমীক্ষার আওতায় থাকবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর বর্তমান অবস্থা যাচাই করে তা সরকারি নথিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তবে চিঠিতে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে যে, এটি একান্তই একটি প্রশাসনিক তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়া। কোনো মাদ্রাসা বন্ধ করা, পড়ুয়াদের স্থানান্তর বা জোরপূর্বক কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্দেশ্য এই সমীক্ষার নেই।
মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের নিশানায় অনুদান বিতর্ক
এই উদ্যোগের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল তুলে ধরেছেন মাদ্রাসায় অনুদান বনাম উৎকর্ষের বিতর্ক। তিনি বলেন, “মাদ্রাসাগুলোর জন্য ৫৭১৩ কোটি টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই টাকা খরচ করে কতজন পড়ুয়া ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, বিজ্ঞানী বা উচ্চপদস্থ সরকারি আমলা (IFS/IRS) হতে পেরেছে? সেখানে আধুনিক শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।” তাঁর মতে, রাজ্যের বর্তমান সরকার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ছেলেমেয়েদের উন্নয়নের মূলস্রোতে শামিল করতে চায়।
ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতি নিয়ে সাফ কথা
তৃণমূলের সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে ভাঙন ও বিজেপির রাজনৈতিক সুবিধা নিয়ে করা প্রশ্নের উত্তরে অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, “বিষয়টি সুবিধা-অসুবিধার নয়। কোনো সম্প্রদায়কে শুধুমাত্র ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে ব্যবহার করলে মানুষ একদিন মুখ ফিরিয়ে নেবেই। একজন হিন্দু মহিলা বা মুসলিম মহিলা—প্রত্যেকেই মাথার ওপর ছাদ, বিশুদ্ধ জল, অন্ন ও কর্মসংস্থান চান। গত ১৫ বছরে সেই মৌলিক চাহিদাগুলোই পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মাদ্রাসার তথ্য সংগ্রহের এই প্রশাসনিক পদক্ষেপের মাধ্যমে সরকার একদিকে যেমন স্বচ্ছতা আনার চেষ্টা করছে, তেমনই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কাছে নিজেদের উন্নয়নের বার্তা পৌঁছানোর রাজনৈতিক কৌশলও গ্রহণ করেছে।





