২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটের আগে বাংলার রাজনৈতিক পারদ এখন তুঙ্গে। এই আবহে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করতে গিয়ে তাঁর শারীরিক অবস্থা এবং মঞ্চে হাঁটাচলা নিয়ে বিষ্ফোরক মন্তব্য করলেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। শুক্রবার উত্তরবঙ্গের এক নির্বাচনী জনসভা থেকে হিমন্তের এই ‘ব্যক্তিগত’ আক্রমণ ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।
হিমন্তের ঠিক কী বক্তব্য? এদিন কোচবিহারের প্রচার মঞ্চ থেকে বিজেপি প্রার্থীকে জেতানোর ডাক দিয়ে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, “মমতা দিদি যেভাবে মঞ্চে হাঁটছেন, তা দেখে মনে হচ্ছে ওঁর শরীরে কোনও বড় সমস্যা হয়েছে। ওঁর বডি ল্যাঙ্গুয়েজ বলছে উনি আর আগের মতো নেই। হয়তো ক্ষমতার ভয় বা শারীরিক অসুস্থতা— কিছু একটা ওঁর হাঁটাচলা বদলে দিয়েছে।” এখানেই থামেননি তিনি, হিমন্ত আরও যোগ করেন যে, বাংলার মানুষের উচিত এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিশ্রাম দিয়ে বিজেপি-কে ক্ষমতায় আনা।
মাছ-মাংস বিতর্ক ও পাল্টা চ্যালেঞ্জ: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছিলেন যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাংলায় মাছ-মাংস খাওয়া বন্ধ করে দেবে। এর জবাবে এদিন হিমন্ত বিশ্ব শর্মা মুখ্যমন্ত্রীকে পাল্টা ‘মাছ খাওয়ার’ চ্যালেঞ্জ (Fish-eating contest) ছুঁড়ে দেন। তিনি বলেন, “অসম ও বিহারে বিজেপি ক্ষমতায় থাকলেও কেউ মাছ-মাংস খাওয়া বন্ধ করেনি। দিদি কেবল মিথ্যে বলে মানুষকে ভয় দেখাচ্ছেন।”
তৃণমূলের তীব্র প্রতিবাদ: একজন মহিলা মুখ্যমন্ত্রীর শরীর এবং হাঁটাচলা নিয়ে হিমন্তের এই মন্তব্যকে ‘অসভ্যতা’ ও ‘নারীবিদ্বেষী’ বলে দাগিয়ে দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য পাল্টা বলেন, “হিমন্ত বিশ্ব শর্মা নিজের চরকায় তেল দিন। বাংলার মানুষের নেত্রী কতটা ফিট, তা ভোটবাক্সেই প্রমাণ হয়ে যাবে। উনি যে ভাষায় ব্যক্তিগত আক্রমণ করছেন, তা বিজেপির সংস্কৃতির পরিচয় দেয়।”
ভোটের ময়দানে উত্তাপ: আগামী ২৩শে এপ্রিল উত্তরবঙ্গের ১৫২টি আসনে প্রথম দফার ভোট। তার আগে হিমন্ত বিশ্ব শর্মার এই মন্তব্যকে হাতিয়ার করে বিজেপি-র বিরুদ্ধে ‘বাঙালি সংস্কৃতি’ ও ‘নারী অবমাননা’র তত্ত্ব খাড়া করতে চাইছে ঘাসফুল শিবির। অন্যদিকে, অনুপ্রবেশ এবং সিএএ (CAA) ইস্যুতে আক্রমণ শানাতে ব্যস্ত পদ্ম শিবির।
মমতার শরীর নিয়ে হিমন্তের এই ‘কটাক্ষ’ শেষ পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের নির্বাচনী সমীকরণে কোনও প্রভাব ফেলে কি না, এখন সেটাই দেখার।





