পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফার ভোটের ঠিক ৭২ ঘণ্টা আগে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড়। তৃণমূল কংগ্রেসের ভোট কুশলী সংস্থা আইপ্যাক (I-PAC) এখন কেন্দ্রীয় সংস্থা ইডির (ED) কড়া নজরে। আর্থিক দুর্নীতি মামলায় সংস্থার অন্যতম পরিচালক ভিনেশ চান্দেল গ্রেফতার হওয়ার পর, এবার সংস্থাটির আরেক শীর্ষ ডিরেক্টর ঋষি রাজকে তলব করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। সোমবারই তাঁকে সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদিও এই তলব নিয়ে আইপ্যাকের তরফে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এদিকে, নির্বাচনের চূড়ান্ত মুহূর্তেই আইপ্যাক কর্মীদের হঠাৎ ‘২০ দিনের ছুটিতে’ পাঠানোর খবর ছড়িয়ে পড়তেই জোড়াফুল শিবিরের অন্দরে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। প্রশ্ন উঠছে, ভোটের মুখে যখন সেনাপতির প্রয়োজন সবথেকে বেশি, তখন কেন ছুটিতে পাঠানো হলো ভোট কুশলীদের? তৃণমূলের একাংশের মধ্যে এই নিয়ে চরম হতাশা তৈরি হলেও শীর্ষ নেতৃত্ব কিন্তু অবিচল।
তৃণমূলের ‘প্ল্যান বি’: অভিষেকের নিজস্ব বাহিনী
আইপ্যাকের অনুপস্থিতিতে ভোট সামলাতে তৃণমূলের হাতে রয়েছে ‘বিকল্প’ অস্ত্র। দলীয় সূত্রে খবর, ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসের সাত তলা থেকেই এখন নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে যাবতীয় অপারেশন।
কর্পোরেট স্ট্রাকচার: আইপ্যাকের আদলেই তৈরি এই পেশাদার দলটির রাশ সরাসরি অভিষেকের হাতে।
জেলায় জেলায় সক্রিয়তা: প্রথম দফার ১৫২টি আসনে ইতিমতেই কাজ শুরু করে দিয়েছে এই বিকল্প বাহিনী। এলাকাভিত্তিক হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ও প্রচারের ব্লু-প্রিন্ট এখন তাদেরই নিয়ন্ত্রণে।
আইপ্যাকের রূপরেখা: আইপ্যাক যে নির্বাচনী রোডম্যাপ তৈরি করে দিয়েছিল, সেই পথ ধরেই এখন এই প্রশিক্ষিত কর্মীরা কাজ চালাচ্ছেন।
আইপ্যাক মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত অর্থাৎ ভোট পর্ব মেটা পর্যন্ত ছুটিতে থাকতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। তবে তৃণমূলের দাবি, তাদের নিজস্ব পেশাদার টিম সংখ্যায় আইপ্যাকের মতো বিশাল না হলেও, অপারেশনাল কাজে কোনও খামতি থাকবে না। ইডির তৎপরতা এবং আইপ্যাকের অন্তরাল— এই দুইয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে তৃণমূলের নিজস্ব বাহিনী ভোট বৈতরণী পার করতে পারে কি না, সেটাই এখন দেখার।





