কূটনৈতিক মহলের সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে চারদিনের গুরুত্বপূর্ণ ভারত সফরে এসে পৌঁছালেন মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও। শনিবার সকালেই তিনি কলকাতায় পা রাখেন এবং সেখান থেকে দ্রুত সফরসূচি অনুযায়ী যাত্রা করেন দেশের রাজধানী নয়াদিল্লির উদ্দেশ্যে। দিল্লি পৌঁছানোর পরপরই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণভাবে তিনি দেখা করলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে। দিল্লির সেবা তীর্থে আয়োজিত এই সাক্ষাৎকে ঘিরে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন চর্চা।
সকাল থেকেই মার্কো রুবিওর সফর নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলিতে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যায়। কলকাতা থেকে দিল্লিতে পৌঁছানোর পর প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে এই বৈঠক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন মাইলফলক হতে পারে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। যদিও এই বৈঠকের নির্দিষ্ট আলোচ্যসূচি নিয়ে সরকারিভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি, তবে ধারণা করা হচ্ছে, ভারত-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিরাপত্তা, ভূ-রাজনীতি এবং দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে এই সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
নয়াদিল্লির সেবা তীর্থে এদিন প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং মার্কো রুবিওর মধ্যে উষ্ণ সৌজন্য বিনিময় হয়। মার্কিন বিদেশসচিব হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর রুবিওর এই ভারত সফরকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন পর্যবেক্ষকরা। বিশ্ব রাজনীতিতে ভারত এখন এক শক্তিশালী শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে এবং সেই নিরিখে আমেরিকার সঙ্গে ভারতের কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর করার প্রক্রিয়ায় এই সফর এক নতুন গতি সঞ্চার করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য যে, গত কয়েক বছরে ভারত এবং আমেরিকা—এই দুই দেশই বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মঞ্চে একে অপরের পাশে দাঁড়িয়েছে। প্রযুক্তির আদান-প্রদান থেকে শুরু করে প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত চুক্তি, দুই দেশের সম্পর্ক এখন অনেক বেশি মজবুত। রুবিওর এই চারদিনের ভারত সফর মূলত এই বন্ধুত্বের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করার লক্ষ্যে পরিকল্পিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে এই বৈঠকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি মার্কো রুবিও কেন্দ্রীয় সরকারের একাধিক শীর্ষ আধিকারিক এবং নীতিনির্ধারকদের সঙ্গেও গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেবেন। চারদিনের এই সফর সূচিতে ভারতের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির অভিজ্ঞতা অর্জন করার পাশাপাশি দুই দেশের বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও কিভাবে বাড়ানো যায়, সেই বিষয়েও বিশেষ আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কলকাতার পর রাজধানীর মাটিতে পা রেখে মার্কো রুবিওর এই ব্যস্ত সফরসূচি বুঝিয়ে দিচ্ছে, আমেরিকার বিদেশনীতিতে ভারতের গুরুত্ব কতখানি। এদিন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এই সাক্ষাৎকারের পর নয়াদিল্লির কূটনৈতিক আবহে বেশ ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গিয়েছে। আগামী দিনগুলিতে এই সফরের ফলাফল ভারত ও আমেরিকার কৌশলগত অংশীদারিত্বকে কোন উচ্চতায় নিয়ে যায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।





