বিশ্ব রাজনীতির রণক্ষেত্রে যখন হোরমুজ প্রণালী নিয়ে টানটান উত্তেজনা, ঠিক তখনই ভারতের জন্য বড়সড় স্বস্তির বার্তা দিল তেহরান। ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক পথ দিয়ে যাতায়াতকারী ভারতীয় জাহাজগুলোর কাছ থেকে কোনো টোল নেওয়া হয়নি এবং ভবিষ্যতেও ভারতের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে সব ধরনের সাহায্য করবে তারা।
বন্ধুত্বের নজির: টোল বিতর্ক ও ইরানের অবস্থান ভারতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ফাতাহলি এক বিবৃতিতে জানান, “আপনারা ভারত সরকারের কাছেও যাচাই করতে পারেন, আমরা আজ পর্যন্ত কোনো টোল নিইনি।” তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, বর্তমান কঠিন পরিস্থিতিতেও ভারত ও ইরানের সম্পর্ক অটুট রয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, ভারত তাঁদের অন্যতম শীর্ষ ৫ বিশ্বস্ত বন্ধুর মধ্যে একজন। এই গভীর বন্ধুত্বই প্রমাণ করে যে দু’দেশের স্বার্থ একে অপরের পরিপূরক।
ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা ও হোরমুজ প্রণালী ভারতের জন্য হোরমুজ প্রণালী কার্যত ‘লাইফলাইন’। ভারতের মোট চাহিদার প্রায় অর্ধেক অপরিশোধিত তেল ও এলপিজি এই পথেই আসে। ইরান-যুদ্ধ শুরুর পর যখন এই পথে যান চলাচল প্রায় স্তব্ধ, তখন ভারতের ৯টি এলপিজি জাহাজ নিরাপদে পার করে দিয়েছিল ইরান। বর্তমানে পারস্য উপসাগরে ভারতের পতাকাবাহী আরও ১৫টি জাহাজ আটকে থাকলেও, তেহরানের আশ্বাস দিল্লিকে দুশ্চিন্তামুক্ত করেছে।
মার্কিন নাকেবন্দি ও ফাতাহলির হুঙ্কার আমেরিকার নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন হোরমুজ প্রণালীতে কড়া নাকেবন্দির ডাক দিয়েছেন, তখন ফাতাহলি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে এই এলাকার ওপর ইরানের সার্বভৌম অধিকার রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, আমেরিকা ও ইজরায়েল যুদ্ধের রীতিনীতি লঙ্ঘন করেছে। ফাতাহলি জানান, আমেরিকা যদি ‘বেআইনি’ দাবি ত্যাগ করে তবেই আলোচনার রাস্তা খোলা সম্ভব। ট্রাম্পের নাকেবন্দি মূলত ইরানের তেল বিক্রি বন্ধের উদ্দেশ্যে হলেও, ভারতীয় জাহাজের যাতায়াতে যাতে কোনো বাধা না আসে, সেদিকে কড়া নজর রাখছে তেহরান।





