গত কয়েকদিন ধরে মালদহের মোথাবাড়ি বিডিও অফিস ঘেরাও এবং বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে যে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল, তাতে এবার যোগ হলো এক নতুন ও চাঞ্চল্যকর মাত্রা। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা NIA-র সাম্প্রতিক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, এই বিক্ষোভ মোটেও স্বতঃস্ফূর্ত ছিল না; বরং এর পেছনে ছিল সুপরিকল্পিত কোনো ষড়যন্ত্র।
এনআইএ-র বিস্ফোরক দাবি: তদন্তকারী সংস্থা তাদের রিপোর্টে জানিয়েছে, বিডিও অফিস অবরোধকে দীর্ঘস্থায়ী এবং আরও তীব্র করে তোলার জন্য পরিকল্পিতভাবে বাইরে থেকে লোক নিয়ে আসা হয়েছিল। শুধু তাই নয়, এই বিক্ষোভে এমন অনেককে সামনের সারিতে রাখা হয়েছিল যাদের নাম ভোটার তালিকা থেকে আগেই বাদ পড়েছে (Deleted Voters)। এনআইএ-র অভিযোগ, সাধারণ মানুষের আবেগকে ব্যবহার করে সরকারি কাজে বাধা সৃষ্টি করাই ছিল এই জমায়েতের আসল উদ্দেশ্য।
কেন এই ষড়যন্ত্র? রিপোর্টে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে:
বিডিও অফিসকে অবরুদ্ধ করে প্রশাসনিক কাজ স্তব্ধ করে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল।
বিক্ষোভকে বড় আকার দিতে স্থানীয়দের পাশাপাশি বহিরাগতদের মদত নেওয়া হয়েছে।
ভোটার তালিকা সংশোধন বা ‘ডিলিটেড ভোটার’ ইস্যুটিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
তদন্তের পরবর্তী ধাপ: এই ঘটনায় কারা অর্থ সাহায্য করেছে বা কারা পেছন থেকে কলকাঠি নেড়েছে, তাদের চিহ্নিত করতে তল্লাশি শুরু করেছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। স্থানীয়দের একাংশের বয়ান এবং সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে বিক্ষোভের নেপথ্যে থাকা মূল মাথাদের ধরার চেষ্টা চলছে।
পেশাদার এডিটোরিয়াল নোট: মোথাবাড়ির এই ঘটনা কেবল একটি স্থানীয় বিক্ষোভ নয়, বরং এর সাথে জাতীয় নিরাপত্তার কোনও যোগসূত্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে এনআইএ। ভোটের আগে এ ধরনের ‘পরিকল্পিত’ বিক্ষোভ প্রশাসনের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।





